kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অপুষ্টিতে ভুগছে নারী

পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১৯৯৫ সাল থেকে সমন্বিত প্রকল্প শুরু হলেও দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, নারীদের ২৪ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টিতে ভুগছে।

অপুষ্টির শিকার মায়েদের কারণে ৯২ লাখ শিশু ভুগছে রক্তস্বল্পতায়। দেশে পাঁচ বছরের নিচে ৭৩ লাখ শিশু খর্বাকৃতির। অপেক্ষাকৃত কম ওজনের শিশুর সংখ্যা ৬৫ লাখ। ২৯ লাখ শিশু শারীরিকভাবে দুর্বল।

পুষ্টির সঙ্গে জনগণের সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি সম্পর্কিত। দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে পুষ্টির বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না। যারা অপুষ্টির শিকার, তাদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সে ক্ষেত্রে অপুষ্টি আক্রান্তদের পরিবারে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়। মানতে হবে আগের চেয়ে দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে। সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে শুরু করে অনেক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষণ। কিন্তু সাফল্য যে আশাব্যঞ্জক নয়, তা প্রমাণ করে এই গবেষণা। পুষ্টি সমস্যা সমাধানে আরো বেশি কাজ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সব মানুষ এখনো সুষম খাদ্য পায় না। অন্যদিকে অভাবের সময় পুষ্টিকর খাদ্য জোগানো অনেকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। দরিদ্র মানুষের খাদ্য তালিকা থেকে মাছ-মাংস-ডিম-দুধ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। ভাতের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কায়িক শ্রম যাদের জীবিকা, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার না পাওয়ায় তাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। সুতরাং দরিদ্র মানুষের পর্যাপ্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে খাদ্যাভ্যাসে। আমাদের দেশে একই ধরনের অনেক খাদ্য পাওয়া যায় যার পুষ্টিগুণ আলাদা। কাজেই খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টি দিতে হবে। খাদ্যের পুষ্টিগুণ নিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুধু প্রচার নয়, খাদ্য প্রাপ্তিও নিশ্চিত করতে হবে। পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য উত্পাদন ও সুলভ মূল্যে দরিদ্রদের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

সরকার দেশের জনগণের পুষ্টি উন্নয়ন ও বৃদ্ধির জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় পুষ্টিনীতি প্রণীত হয়েছে। চালু করা হয়েছে নিউট্রিশন সার্ভিস। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টির প্রাপ্তি এখন অনেক কমে গেছে। আগের মতো      খাল-বিল-ডোবা থেকে মাছ সংগ্রহ করা যায় না। সব চলে গেছে বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায়। দরিদ্র মানুষ এসবের ওপর থেকে অধিকার হারিয়েছে। কাজেই বৃহত্তর এই জনগোষ্ঠীর পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে। সুষম খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারলে আগামী দিনে স্বাস্থ্যবান জাতি গড়ে উঠবে এবং তারা জাতীয় উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে। কাজেই অপুষ্টি দূর করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য