kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভাঙন

জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করতে হবে

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভাঙনের মুখে অচলপ্রায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। চারটি ঘাটের একটি দিয়ে কোনো মতে যানবাহন পারাপার হচ্ছে।

ঘাটে ফেরি ভিড়তে না পারায় পদ্মা নদীর উভয় পারে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। এক মাস আগেও ঠিক একই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার থেকে শুরু হবে ঈদযাত্রা। ঘাটের এই অবস্থা থাকলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়কপথের যাত্রীদের ঈদযাত্রায় যে চরম ভোগান্তি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট শুরু হয়েছে। পদ্মার অপর পার থেকে দেশের পূর্বাঞ্চলে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক এ পথেই পারাপার হয়। পারাপার ব্যাহত হলে বাজারে তার প্রভাব পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ব্যবসায়ীরা। পচনশীল পণ্যের ট্রাকও আটকা পড়েছে এই ঘাটে। অতি সত্বর দৌলতদিয়ার চারটি ঘাট মেরামত করা না হলে কিংবা নতুন ঘাট তৈরি না করলে এ পথে যাতায়াত একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় তীব্র স্রোত দেখা দেয়। প্রতি বর্ষায়ই ফেরিঘাটগুলো বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে। কিন্তু এবারের মতো ভাঙনের মুখে পড়েনি কখনো। দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় একটি চর ছিল। এই চরের কারণে ভাঙনের হাত থেকে বরাবর রক্ষা পেয়েছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। এবারের বর্ষায় চরটি ভেঙে যাওয়ায় পদ্মার তীব্র স্রোত ১ ও ২ নম্বর ঘাটে ধাক্কা দিচ্ছে। ঘাট দুটি সব সময় ঝুঁকিতে থাকছে। আবার স্রোতের তীব্রতায় ফেরি ভেড়ার সময় সজোরে পন্টুনে ধাক্কা দিচ্ছে। নদীপথে সমস্যা থাকবেই। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে সমস্যা বাড়বে। কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। নদীপথ চালু রাখতে হবে। ফেরিঘাটে কাজ করে এমন তিন কর্তৃপক্ষ—বিআইডাব্লিউটিএ, বিআইডাব্লিউটিসি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান কাজ হচ্ছে, সব সুবিধা দিয়ে ঘাট চালু রাখা। এর জন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চ সমন্বয়। কিন্তু দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সরকারের এই তিন সংস্থার কাজের কোনো সমন্বয় আছে কি না এ প্রশ্নটা এখন সবার সামনে চলে এসেছে। তিন সংস্থার কাজের সমন্বয় থাকলে নতুন ঘাট তৈরিতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

ঈদের আগে জরুরি ভিত্তিতে ঘাটগুলো চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ঈদযাত্রায় যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমরা।


মন্তব্য