kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গি কর্মকাণ্ডে পাকিস্তানিরা

অবাধ আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গি কর্মকাণ্ডে পাকিস্তানিরা

পাকিস্তান ক্রমেই দক্ষিণ এশিয়ার এক দুষ্টক্ষত হয়ে উঠছে। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলো ভারত ও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

কখনো কখনো তারা নিজেরাই অন্য দেশে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। ভারতের তাজ হোটেল, পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিসহ নানা স্থানে পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে বলে প্রমাণও পেয়েছে ভারত। আর এসব হামলার পেছনে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জড়িত বলেও তথ্যপ্রমাণ উঠে আসছে। বাংলাদেশে এরই মধ্যে শখানেক পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যারা কোনোভাবে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত। অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান দূতাবাসের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধেও। তথ্যপ্রমাণসহ গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নিকট অতীতে দুজন দূতাবাস কর্মীকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও পাকিস্তানি নাগরিকদের জঙ্গি সম্পৃক্ততার এমনি ভয়ংকর সব তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। কিন্তু এই পাকিস্তানি নাগরিকদের সম্পর্কে সরকার যথেষ্ট সতর্ক বলে মনে হয় না।

সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ৯ হাজার পাকিস্তানি নাগরিক বৈধভাবে অবস্থান করছে। ধারণা করা হয়, অবৈধভাবে অবস্থান করছে তার চেয়ে অনেক বেশি। জঙ্গি তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সম্প্রতি যেসব পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করেছে, দেখা গেছে তাদের প্রায় সবাই অবৈধভাবে এখানে অবস্থান করছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলশান ও শোলাকিয়া হামলাসহ বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সব জঙ্গি হামলার পেছনে রয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা তো তারা করছেই, অনেক জঙ্গিকে পাকিস্তানে নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। নব্য ধারার জেএমবির উত্থানে মূল ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। গত নভেম্বরে গ্রেপ্তার হওয়া পাকিস্তানি নাগরিক ইদ্রিস শেখ ও মকবুল শরীফের জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে এমন তথ্য। এর পরও পাকিস্তানি নাগরিকদের সম্পর্কে এত উদাসীনতা কেন? জানা যায়, ইদ্রিস শেখ ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এসে জেএমবির সঙ্গে যোগ দেয়। গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দুই বছরে ইদ্রিস শেখ ৪৮ বার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে আসা-যাওয়া করেছে। বাংলাদেশি জঙ্গিদের পাকিস্তানে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে মূল ভূমিকা পালন করেছে ইদ্রিস। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছে সে সময় ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত সেকেন্ড সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) ফারিনা আরশাদ, যাঁকে পরে প্রত্যাহার করা হয় এবং আইএসআইয়ের পক্ষে পাকিস্তানের একটি বিমানবন্দরে কর্মরত ক্যাপ্টেন অসীম। এর আগে ভারতের দ্বিতীয় মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি আবদুল করিম, ওরফে টুণ্ডা করিমকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়। টুণ্ডা করিম দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আত্মগোপন করে ছিল। এসব কিভাবে সম্ভব হয়? আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এত দুর্বল কেন?

স্থানীয় জঙ্গিদের দিয়ে বড় অঘটন ঘটাতে ব্যর্থ হলে পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিরা যে এখানে তাজ হোটেল বা পাঠানকোট বিমান ঘাঁটির মতো হামলা চালাবে না কিংবা আরো বড় কোনো অঘটন ঘটাবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? ঘটনা ঘটে গেলে পরে হা-হুতাশ করে লাভ হবে না। তাই এখনই পাকিস্তানি নাগরিকদের সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া তাদের আসা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।


মন্তব্য