kalerkantho


নারী নির্যাতন থেমে নেই

কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সামাজিক অবক্ষয় কোন পর্যায়ে গেছে তা ভাবা যায় না। গণমাধ্যমে প্রতিদিন আসছে নারী নির্যাতনের খবর। নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শিশুরাও। ব্ল্যাকমেইলিংয়েরও শিকার হচ্ছে শিশুরা। দিনে দিনে সমাজ এগিয়ে যাবে আলোর দিকে; কিন্তু আমরা যেন অন্ধকারের দিকে যাচ্ছি। নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে সমাজ যেন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। নারীর পাশাপাশি শিশুদেরও প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। সোমবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত দুটি খবরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে। নির্যাতনের শিকার এক শিশু আত্মহত্যা করেছে বরগুনায়। রিকশাচালক বাবার এই মেয়ে স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। দরিদ্র পরিবারের মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত একই গ্রামের এক বখাটে।

প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রলুব্ধ করে তাকে। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে ছবি তুলে সেই ছবি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে নির্যাতন শুরু করে। এই বখাটের দুই বন্ধু তার মোবাইল ফোন থেকে ছবি চুরি করে এবার মেয়েটিকে নির্যাতন করতে শুরু করে। একপর্যায়ে নির্যাতন ও অপমান সইতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে মেয়েটি। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দুই তরুণকে আটক করেছে। কিশোরী নির্যাতনের অপর ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে। বলপেন কারখানার কর্মী এক কিশোরী তার প্রেমিকের সঙ্গে স্থানীয় একটি আবাসন প্রকল্পে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রেমিক তরুণ তার দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে শুধু ধর্ষণ করেই থেমে থাকেনি, ওই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণও করে রাখে। পুলিশ দুই তরুণকে আটক করেছে।

প্রতিদিন গণমাধ্যমে যে খবর আসে তার বাইরেও অনেক ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে চলেছে। সামাজিক সম্মান ও নিরাপত্তার খাতিরে ভুক্তভোগীরা অনেক ঘটনা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরতে চায় না। আবার প্রভাবশালীদের কারণেও অনেক ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। এভাবে আর কত দিন? কবে অবসান হবে এ বর্বরতার। কবে আমাদের সমাজে নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে? পাবে যোগ্য সম্মান? শিশুরাও কেন যৌন নির্যাতনের শিকার হবে? এই অন্ধকার পথ থেকে আলোর পথে কি আমাদের উত্তরণ ঘটবে না? কবে এই সমাজ নারীবান্ধব ও শিশুবান্ধব হবে?

আমরা বারবার বলে আসছি, আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলেই কেবল সমাজ এই পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু লক্ষণীয়, এসব ঘটনা ঘটার পর তদন্ত ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়। অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসে। এই দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি চাই আমরা।


মন্তব্য