kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিবৃতি

কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ভাবা প্রয়োজন

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পাকিস্তানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিবৃতি

একাত্তরের ঘাতক ও আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীকে ফাঁসি দেওয়ায় পাকিস্তানের আঁতে ঘা লেগেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ত্রুটিপূর্ণ বিচারে’ মীর কাসেমকে ফাঁসি দেওয়ায় তারা মর্মাহত হয়েছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন স্বচ্ছতায় প্রকাশ্যে যে বিচারকাজ চার বছর ধরে চলেছে, তা তাদের কাছে ত্রুটিপূর্ণ মনে হয়েছে। ঔদ্ধত্য আর কাকে বলে! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নািস বাহিনীর বিচারসহ আরো যেসব জায়গায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়েছে, কোথাও এভাবে আপিল, রিভিউ আবেদনের সুযোগ রাখা হয়নি। বাংলাদেশে এত সব সুযোগ রাখার পরও এ ধরনের কথা বলা কেবল পাকিস্তানের মতো দেশের পক্ষেই মানায়। কারণ জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ আরো অনেক নেতাকেই তারা ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে, যা ছিল বিশ্ববাসীর কাছে প্রহসনের শামিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, প্রতিবারই পাকিস্তান এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছে। প্রতিবারই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি আঘাতস্বরূপ। কিন্তু পাকিস্তান আঘাত করেই যাচ্ছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা দরকার।

মীর কাসেম যে আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার ছিলেন তার পক্ষে অনেক দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। এই বাহিনী যে সুপরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে হত্যা করেছে, তা-ও তথ্য-প্রমাণে স্বীকৃত। সাক্ষী-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে, মীর কাসেমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা জসিমউদ্দিন ও আরো ছয়জনকে ডালিম হোটেলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই অভিযোগেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পরও পাকিস্তানের এ ধরনের বিবৃতি প্রমাণ করে, পাকিস্তান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের অবস্থান এখনো এক সুতায় গাঁথা। সে কারণেই তাঁদের শাস্তি হলে পাকিস্তানের অন্তর্জ্বালা বেড়ে যায়। পাকিস্তানের এই অন্তর্জ্বালাকে হালকাভাবে দেখার উপায় নেই। স্বাধীনতার পর থেকেই পলাতক জামায়াত নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় নামে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনেও ছিল পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। তাদেরই নীলনকশায় ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ এই হত্যাকাণ্ড। সেই রহস্য উদ্ঘাটনের কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ থেকে স্বাধীনতার চেতনা মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা চলতে থাকে তখন থেকেই। বাংলাদেশের বর্তমান জঙ্গি হামলার পেছনেও তারা যে নানাভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে, নানা ঘটনায় তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের অনেক জঙ্গি এখানে ধরাও পড়েছে। পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মীদের জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে এসেছে। এমনকি ২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর জনসভায় যে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল, সেই গ্রেনেডও এসেছিল পাকিস্তান থেকে। তার সঙ্গেও আইএসআই জড়িত ছিল বলে মনে করা হয়। এর পরও দেশটির সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা কতটুকু যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি জামায়াত ও পাকিস্তানের মধ্যকার গোপন আঁতাতের বিষয়গুলোও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।


মন্তব্য