kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবিরোধী সভা

এভাবেই গড়ে উঠুক সামাজিক প্রতিরোধ

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দেশে অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে পুলিশের অভিযানে অনেক জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার পর বিস্মিত হয়েছে দেশের মানুষ।

নিহতদের অনেকেই সম্পন্ন পরিবারের সন্তান, দেশ ও বিদেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। অনেকের শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে। কেউ কেউ শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ রেখেইে মিশে গেছে জঙ্গি দলে। দেশের প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনো নিখোঁজ। তারাও জঙ্গিদের দলে ভিড়তে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও চিন্তা দেখা দিয়েছে। মানুষ গড়ার আঙিনা শিক্ষাঙ্গনে কেন জঙ্গি তৈরি হবে, এ চিন্তা এখন সবার। সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জঙ্গি প্রতিরোধে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আলাদা আলাদা বৈঠক হয়। গত মাসের মাঝামাঝি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গত শনিবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে জঙ্গিবিরোধী সমাবেশ হয়েছে। এসব সমাবেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে। এসব সমাবেশে আলোচিত হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তিন দফা নির্দেশনাও। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করতে করণীয় নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন বক্তারা।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না, এ কথা সত্য। সাময়িক এ সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ এখন সময়ের ব্যাপার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর। দেশের সচেতন মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জঙ্গিবাদ দেশ থেকে দূর হবেই। এর জন্য সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়াস হিসেবে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগের মতো সাংস্কৃতিক চর্চা, বিতর্ক, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে। দেয়ালপত্রিকা, বার্ষিকী বা সংকলন নিয়মিত প্রকাশের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে মানবিক মূল্যবোধ, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই করা সম্ভব।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে সমাবেশ করে যে বার্তা দিয়েছে, তাকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। এই সমাবেশ যেন শুধুই এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা না হয়। এখান থেকেই শুরু হোক সামাজিক প্রতিরোধের নতুন অধ্যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক—সবার সম্মিলিত চেষ্টায় দেশ থেকে জঙ্গি-সন্ত্রাসের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।


মন্তব্য