kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

জিকা সতর্কতা

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বর্তমানে সারা দুনিয়ায় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আমাদের কাছাকাছি দেশ সিঙ্গাপুরে সম্প্রতি শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁরা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত।

এঁদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। সংগত কারণেই বাংলাদেশও এতে উদ্বিগ্ন। বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে সিঙ্গাপুর থেকে যাঁরা আসছেন তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে—এমন ২১টি দেশের ক্ষেত্রেও একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেবল বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকেই কি বাংলাদেশকে জিকামুক্ত রাখা যাবে? গত মার্চে চট্টগ্রামে জিকায় আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল। চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু আক্রান্ত অবস্থায় মশার মাধ্যমে আরো কতজনের দেহে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে, তা কি আমরা জানি?

ডেঙ্গুর মতো জিকা ভাইরাসও মূলত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। তত দিনে তার দেহ থেকে মশার মাধ্যমে অন্য কারো দেহে জিকা ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে জ্বরসহ নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ডেঙ্গুর মতো জিকায় মৃত্যু না হলেও জিকায় আক্রান্ত নারীর গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়। ফলে ছোট মাথা নিয়ে জন্ম হওয়া এসব শিশুর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। আর সেটিই জিকা সংক্রমণের প্রধান উদ্বেগের কারণ। বিষয়টি আমাদেরও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিমানবন্দরে বিশেষ ব্যবস্থা নিলেও তা শতভাগ সফল হবে—এমনটা বলা যায় না। ফাঁকফোকর গলিয়ে ভাইরাসের অনুপ্রবেশ ঘটবেই। আবার জাহাজে কাজ করা অনেকেই সিঙ্গাপুরে যান এবং কয়েক দিন থাকেন। অন্যান্যভাবেও কিছু আসা-যাওয়া রয়েছে। তাদের মাধ্যমেও ভাইরাস দেশে ঢুকতে পারে। তদুপরি একজন রোগী যেহেতু পাওয়া গেছে, তাই দেশে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে—এমনটাই ধরে নেওয়া যেতে পারে। এখন প্রয়োজন দেশের হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে কিংবা ব্যক্তিগত চিকিৎসায়ও নজরদারি বাড়ানো। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় সেলের মাধ্যমে কার্যকরভাবে সারা দেশের তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করাও প্রয়োজন।

শুধু জিকা নয়, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়ার মতো মশাবাহিত অন্যান্য রোগেও বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত কম ক্ষতি হচ্ছে না। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রীতিমতো ভেঙে পড়েছে। তাই যেখানে-সেখানে পানি জমে থাকে ও মশার বংশবিস্তার ত্বরান্বিত হয়। নিয়মিত মশক নিধন অভিযান নেই বললেই চলে। নাগরিক সচেতনতাও কম। তাই কেবল বিমানবন্দরে কিংবা আরো দু-একটি স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললে হবে না। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা আশা করি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।


মন্তব্য