kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পলাতক যুদ্ধাপরাধী

অভিযুক্তদের খুঁজে বের করুন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পলাতক যুদ্ধাপরাধী

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করছে।

এরই মধ্যে চার জামায়াত নেতাসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার ছিল এ দেশের জনগণের প্রাণের দাবি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই বিচারের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছিল দেশের মানুষ। নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ২০১০ সালে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শুরু হয় শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তদন্ত। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরই সন্দেহভাজন অনেক যুদ্ধাপরাধী আত্মগোপনে চলে যান। পলাতকদের অনেকেই ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে। এঁদের মধ্যে কয়েকজন আগে থেকেই বিদেশে অবস্থান করছিলেন। আবার কেউ কেউ পালিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল। কার্যত তেমনটি ঘটেছে বলে মনে হয় না। অভিযুক্তদের নজরদারিতে রাখা থেকে শুরু করে মনিটরিং সেল তৈরি করে পলাতকদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড কার্যকর করতে তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদারকি সেলও তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। আগে থেকেই যুক্তরাজ্যে পালিয়ে আছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মইনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ফরিদপুরের মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার পাকিস্তানে পালিয়ে গেছেন বলে জানা যায়। কিশোরগঞ্জের হাসেন আলী ও ফরিদপুরের খোকন রাজাকারও বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। এ দুজনই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের আরো চার রাজাকারসহ পিরোজপুরের জাতীয় পার্টির এক নেতা পলাতক রয়েছেন। পালিয়ে রয়েছেন যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত যশোরের ছয়জন এবং জামালপুরের ছয়জন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সন্দেহভাজন, তদন্ত চলছে এমন অনেকেই পলাতক। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতকদের অনেকেই দেশে-বিদেশে থেকে দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অথচ দণ্ডিত এই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশে পলাতকদের গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করতে মনিটরিং সেল গঠনের পরও কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। রায় ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত পলাতক কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তেমন কোনো কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও জানা যায় না।  

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা ও বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে পলাতক দণ্ডিত ও অভিযুক্তদের খুঁজে বের করা জরুরি। এই কাজে সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। দেশের অভ্যন্তরে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব মহলের সম্মিলিত চেষ্টা থাকলে অবশ্যই পলাতকদের বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।


মন্তব্য