kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কিছু গার্মেন্টে বোনাস নিয়ে শঙ্কা

উদ্বেগ দূর করুন

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যাঁদের শ্রম-ঘামে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, আরো সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছে তাঁদের অন্যতম এ দেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা। উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও তাঁরা কিন্তু নিজের জীবনে তেমন কোনো সমৃদ্ধিই পাননি।

তার পরও বেঁচে থাকার প্রয়োজনে নিরন্তর চলছে তাঁদের জীবন-সংগ্রাম। কাকডাকা ভোরে উঠে কাজের জন্য ছুটে চলা, রাত ঘনিয়ে এলে ক্লান্ত শরীরটাকে টেনে টেনে ঘরে ফেরা—নিত্যদিনের একটাই রুটিন তাঁদের। এই গার্মেন্টকর্মীদের কাছে বছরের দুই ঈদে যে দুটি বোনাস দেওয়া হয়, তা-ই অনেক বড় প্রাপ্তি। নিজের সন্তান কিংবা ভাইবোন, মা-বাবার জন্য সামান্য কিছু উপহার কেনার এ ছাড়া আর সুযোগ কোথায়। তাই সবাই অপেক্ষায় থাকেন ঈদ বোনাসের জন্য। কিন্তু সেটি যখন না পাওয়া যায় তখন তাঁদের কষ্টের সীমা-পরিসীমা থাকে না। অতীতে এমন অনেক গার্মেন্টকর্মীকে কারখানার সামনে রাস্তায় ঈদ করতেও দেখা গেছে। কেন এমন হবে?

বছরের দুটি ঈদ হচ্ছে মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসব। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদ্যাপনের জন্য শ্রমিক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা দেওয়া হয়। অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান যথাসময়েই তা পরিশোধ করে। কিন্তু প্রতিবছরই হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠান বোনাস নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি করে। অনেকে বেতনও আটকে রাখে, যাতে শেষ মুহূর্তে বোনাস না দিয়ে শুধু বেতন দিয়ে বিদায় করা যায়। এ ধরনের কৌশল অত্যন্ত নিন্দনীয়। গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকে প্রায় ২০০ কারখানার তালিকা দিয়েছে, যেগুলোতে এ বছরও ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে। বিজিএমইএর নিজস্ব অনুসন্ধানও থাকে এ ক্ষেত্রে। বিজিএমইএর নেতারা বলেছেন, এ বছর যাতে কোনো ঝামেলা না হয় সে জন্য তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ব্যবসায় কখনো কখনো কারো কারো মন্দা যেতে পারে। কিন্তু সে কারণে ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ না করার কোনো সুযোগ নেই। বিজিএমইএ কিংবা শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে নিশ্চয়ই তালিকা আছে যে বিগত বছরগুলোতে কোন কোন কারখানায় এ ধরনের ঝামেলা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কারখানায় যদি বছরের পর বছর একই অবস্থা হয়, তাহলে সে ধরনের কারখানা হয় বন্ধ করে দিতে হবে, না হয় উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বেতন-বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ঝামেলা সৃষ্টি করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই না, সারা বছর কাজ করার পর ঈদের আগে শ্রমিকরা বেতন-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসুক। তার আগেই সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন, এমনটাই প্রত্যাশিত।


মন্তব্য