kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লবণের বাজার অস্থির

দ্রুত ব্যবস্থা নিন

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



লবণের বাজার অস্থির

একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে। চিনি, তেলসহ বেশ কিছু পণ্যের পর এবার লবণের দর নিয়ন্ত্রণহীন।

গত চার-পাঁচ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব পণ্যের দর হেরফের হয়নি, এ বছরের গোড়ার দিকে সেগুলোরও দর বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। জানুয়ারিতে লবণের দাম হঠাৎ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০ টাকা হলে সরবরাহে ঘাটতি ও আমদানিতে বাধার কথা বলেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এর পরও কার্যকর ব্যবস্থা যে নেওয়া হয়নি তার প্রমাণ আট মাসের ব্যবধানে দাম ৪০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া।

দেশে লবণের চাহিদা ১৬ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। প্রাপ্ত হিসাবে এ বছর উৎপাদন হয় ১৫ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন  উৎপাদন কম হলেই বাজার এমন অস্বাভাবিক হয়ে যাবে? অপরিশোধিত লবণের সংকট ও দাম বাড়ার কথা বলে লবণকল মালিকরা সরকারকে লবণের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু লবণচাষিরা বলছেন, এবার মৌসুমে উৎপাদন ভালোই হয়েছে। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় অভিযোগ আকারে বলা হয়, কোরবানির চামড়ার বাজার সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। বৈঠকে লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং জোরদারের সুপারিশ করা হয়। বাজার স্থিতিশীল করতে দ্রুত ভারত থেকে লবণ আমদানি করা হবে বলেও বৈঠকে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।

বাজার সামাল দিতে গত ১৪ আগস্ট দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ৭৫ হাজার টন শিল্প লবণ ও ৭৫ হাজার টন ভোজ্য লবণ। লবণ ব্যবসায়ীদের অনেকে বলছেন, এত দিন শিল্প ও ভোজ্য লবণ একই কোডে আমদানির সুযোগ ছিল। দেশে এনে পরিশোধন করে আয়োডিন মিশিয়ে ভোজ্য লবণে পরিণত করা হতো। এবারই প্রথম শিল্প লবণ কোটা করা হয়েছে এবং এ সুযোগ শুধু শিল্প মালিকরাই পাবেন। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সুযোগটিও বাজার অস্থিতিকরণে কাজে লাগানো হবে।

কক্সবাজারের অনেক এলাকা ও চট্টগ্রামের কিছু স্থানে লবণ চাষ হয়। লবণচাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে আমদানিতে সরকারি কঠোরতা রয়েছে। তবে বিধিনিষেধ জারির পর সঠিক নজরদারি না থাকলে হিতে বিপরীতও হয় অনেক সময়। লবণের ক্ষেত্রে কারো গাফিলতি ছিল কি না তদন্ত হওয়া উচিত। লবণের দাম বাড়ানোর পেছনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক ‘সিক্সমিল সিন্ডিকেট’-এর কথা শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। আমাদানিতে হঠাৎ শিল্প লবণ কোটা করার ফলে কারসাজির সুযোগ বাড়ল কি না তা-ও যাচাই করা প্রয়োজন। লবণ খাদ্যের অপরিহার্য অঙ্গ। এর কেজি ৪০ টাকার অধিক হওয়া মানেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি খাঁড়ার ঘা। যেকোনো মূল্যে লবণচাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্য নিয়ে কারসাজি চলতে পারে না। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার এ সমস্যার সুরাহা দ্রুত বের করবে।


মন্তব্য