kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

সাথীর আত্মহত্যা

মানবিক হোক প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আরো একটি সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটল। অকালে ঝরে গেল এক মূল্যবান জীবন।

শিক্ষকের শাস্তি মেনে নিতে পারেনি রিকশাচালক বাবার সন্তান, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আক্তার। নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। স্কুল পরীক্ষার সামান্য ফি বকেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের এভাবে কেন শাস্তি দিতে হবে? ফি দেওয়ার দায়িত্ব অভিভাবকের, কোনো শিক্ষার্থীর নয়। একজন শিক্ষক, যাঁকে সব মানবিক গুণে গুণান্বিত হতে হয়, তিনি বা তাঁরা কিভাবে এমন নির্দয় আচরণ করতে পারেন? শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শাসন করা যেতে পারে কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তাকে শারীরিক শাস্তি দিতে হবে।

স্কুল-কলেজে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২০১০ সালে। ওই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, শিক্ষকদের দায়িত্ব হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি মানসিক বিকাশে সহায়তা করা। কিন্তু শারীরিক শাস্তি মানসিক বিকাশের অন্তরায়। এর পরও কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দিলে সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০০৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও একই ধরনের পরিপত্র জারি করে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদেও শিশুদের ওপর দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ সেই সনদে অনুস্বাক্ষরকারী একটি দেশ। তার পরও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি থেমে নেই। শিক্ষকরা কি দেশের প্রচলিত আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলার প্রয়োজন বোধ করেন না? একজন শিক্ষার্থীর অনেক সমস্যা থাকতে পারে। পারিবারিক অভাব-অনটন তার একটি। পরিবারের আর্থিক দৈন্যের ভার কেন শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। এমন নয় যে সাথী আক্তার লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল। পরীক্ষার ফি বাবদ সামান্য কিছু টাকা বকেয়া ছিল। দরিদ্র বাবা সময়মতো তা সংগ্রহ করতে পারেননি। দারিদ্র্য তো কোনো অপরাধ নয়। এমন ব্যবস্থা কেন নিতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী অপমানিত বোধ করতে পারে? পরীক্ষার ফি বাকি থাকায় সাথী আক্তারকে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে তার পরিবারের দারিদ্র্য সবার সামনে উন্মোচিত করে দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র মা-বাবার অভিমানী সন্তান এই অপমান মেনে নিতে পারেনি। বেছে নিয়েছে আত্মহননের পথ। এতে পরিবারটি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার দায় কে নেবে? পরিবারটি আজ যে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে, সে দায়ভার কার? একটি দরিদ্র পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া কি অপরাধ নয়? শুধু আত্মহত্যার প্ররোচনা নয়, ওই স্কুল ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগই আনা যায়।

চাঁদপুরের সাথী আক্তারকে আত্মহননের প্ররোচনার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু শিক্ষক নন, প্রতিষ্ঠানকেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত করা যেতে পারে। আমরা আশা করব, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এমন ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানবিক হবে।


মন্তব্য