kalerkantho


পাসপোর্ট পেতে দুর্ভোগ

দুদকের কঠোর ভূমিকা চাই

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পাসপোর্ট পেতে দুর্ভোগ

রাষ্ট্রের কোনো কোনো সেবা খাতে দুর্নীতি এত প্রবল হয়ে উঠেছে যে সেখানে রাষ্ট্রের সেবা কার্যক্রমই মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পাসপোর্ট অফিস এমনি একটি সেবা খাত। এখানে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না। ফলে পাসপোর্ট নিতে গিয়ে গ্রাহকদের সীমাহীন হয়রানির শিকার হতে হয়। তারই অনেক করুণ চিত্র উঠে এসেছে মঙ্গলবারের গণশুনানিতে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই গণশুনানির আয়োজন করেছিল আগারগাঁওয়ের এলজিআরডি মিলনায়তনে। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার বহু মানুষ শুনানিতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাভারের আরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর ছোট বোন জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত। জমি বিক্রি করে কিছু অর্থ জোগাড় করেছিলেন বোনকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে। জরুরি পাসপোর্টের জন্য আবেদনও করেছিলেন কিন্তু পাসপোর্ট হয় না।

অনেক ঘোরাঘুরির পর সর্বশেষ বলা হয়েছিল, ২২ জুন পাসপোর্ট হাতে পাবেন। সেই পাসপোর্ট পেয়েছেন পরের ১০ জুলাই তারিখে। তত দিনে ডায়ালিসিস করানো ও চিকিৎসা খরচ দিতে দিতে হাতের সামান্য টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন পাসপোর্ট হাতে পেয়েও তিনি অসহায়। প্রিয় বোনটি ক্রমেই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর তিনি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছেন। এমন করুণ অভিজ্ঞতা আরো অনেকেরই রয়েছে।

গতকাল অনলাইনের একটি খবরে বলা হয়, পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের জন্য স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক সদস্য দুই হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন হাইকোর্টের এক বিচারপতির স্ত্রীর কাছে। পরে বিচারপতির নির্দেশে এসবির সেই সদস্যকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সেই ক্ষমতা কোথায়? যাঁদের পাসপোর্টের জরুরি প্রয়োজন তাঁরা বাধ্য হন দাবি করা অর্থ পরিশোধ করতে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, পাসপোর্ট ইস্যু, পুলিশ ভেরিফিকেশন, পাসপোর্ট সংশোধন, নবায়ন ও ডেলিভারি, বিদেশি নাগরিকের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি, শরণার্থীদের আইডি কার্ড ইস্যু, অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে এমন হয়রানি। কেন? কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কি রাষ্ট্রের বেতনভুক নন? জনগণই তাঁদের বেতনের অর্থ জোগাচ্ছে। রাষ্ট্রের পক্ষে সেই জনগণকে নির্দিষ্ট সেবা প্রদানের জন্য তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটাই কি সেই সেবা প্রদানের হাল? রাষ্ট্রের সেবাগুলো ঠিকমতো জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। আশা করি, জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত ও নির্বিঘ্ন করার জন্য যা যা করতে হয়, রাষ্ট্র তা করবে।

গণশুনানির আয়োজন দুদকের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখন শুনানিতে উঠে আসা অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতার অবসান হবে। পাশাপাশি আমরা চাই, সরকারের অন্যান্য সেবা খাতেও দুদক একই ধরনের গণশুনানির আয়োজন করুক এবং সেসব খাতের দুর্নীতি দূর করার উদ্যোগ নিক।


মন্তব্য