kalerkantho


ঢাকায় উচ্ছেদ-পুনর্দখল খেলা

দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আমাদের নগরজীবনে ঘরে-বাইরে ভোগান্তি। বহু মানুষ ঘরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানি পায় না। বাইরে বের হবে—সড়ক, ফুটপাত সবখানেই সমস্যা। যানজট সমস্যা দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে। ফুটপাত দিয়ে হাঁটবে, অনেক এলাকায় সে উপায় নেই। অবৈধ স্থাপনা তুলে বা অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে কিছু মহল ব্যবসার ফাঁদ পেতে বসেছে। দখলদাররা কিছুসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয়ের পথ হয়তো করে দিয়েছে—তাদের জন্য লাখ লাখ পথচারীকে পড়তে হচ্ছে ফ্যাসাদে।

অহেতুক খোঁড়াখুঁড়ি, কাজ শেষ হলে রাস্তা আর ঠিক না করা, মাসের পর মাস রাস্তা ব্যবহার অনুপযোগী করে রাখা—এ সবই ঢাকার পুরনো সমস্যা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষগুলোও এসব জানে। কারণ, অনেক অনিয়ম তাদের নাকের ডগায়ই চলে। আর অনেক সমস্যার কারণ তো কর্তৃপক্ষ নিজেই! তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে না, উল্টো অনেক অনিয়মের আশ্রয় নেয়। তাই কাজে তাদের আদৌ আন্তরিকতা থাকে কি না, নাকি সবই লোকদেখানো—এ প্রশ্ন বরাবরই ওঠে।

ফুলবাড়িয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যালয় ‘নগর ভবনের’ দক্ষিণ পাশের রাস্তা ও ফুটপাতের ওপর নির্মিত ২০০ অবৈধ দোকান গত ১৩ মার্চ উচ্ছেদ করা হয়। নগরপালের দপ্তরের খুব কাছের এলাকা বলে হয়তো অনেকেই ভেবেছিল আর অবৈধ দখল হবে না। কিন্তু হয়েছে। ঢাকাজুড়েই চলছে এমন উচ্ছেদ-পুনর্দখল খেলা। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ব্যক্তিরা নেপথ্যে থাকে বলে প্রশাসন হয় নিষ্ক্রিয় থাকে কিংবা এর সুবিধা নেয়। যেমন—নগর ভবন এলাকার সব অবৈধ দোকান প্রায় শত কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ২-এর কথিত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা হবে?

ঢাকায় গাড়ির সংখ্যা এমনিতেই ধারণক্ষমতার অধিক। দখল বাণিজ্য যানজট আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিটি করপোরেশন, পুলিশ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউক মাঝেমধ্যেই অভিযান চালায়। সমাধান স্থায়ী হয় হয়তো কয়েক দিন। প্রতিবার অভিযানের সময় আশ্বাস শুনি, এবার পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। ভালো হওয়া দূরের কথা, দিনকে দিন সব খারাপের দিকে যাচ্ছে।

বর্ষাকাল আসন্ন। দুই দিন আগে সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকার অনেক পথে পথচারী ও গাড়ি আরোহীরা যে ভোগান্তিতে পড়েছেন তাতে অনুমান করা যায়, সামনে কী পরিস্থিতি হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নগরজীবনের ভোগান্তির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কখনোই জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ থেকে বেরোতে হবে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিন। ঢাকাকে বাসযোগ্য ও চলাচল উপযোগী করে গড়ে তুলুন।


মন্তব্য