kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সান্ধ্য আদালতের উদ্যোগ

দ্রুত বাস্তবায়ন করুন

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



সান্ধ্য আদালতের উদ্যোগ

কথায় বলে, জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড। অর্থাৎ বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে ন্যায়বিচার অস্বীকার করা। বাস্তবে আমাদের দেশে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অবস্থা অনেকটা তেমন পর্যায়েই চলে গেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতে ৩০ লাখ মামলা বিচারের অপেক্ষায় আছে। কোনো কোনো মামলা কয়েক দশক ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে অনেক মামলার বাদী সুবিচার না পেয়েই মারা গেছেন। এতে নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, তার গুরুতর ব্যাঘাত ঘটছে। সে কারণেই মাননীয় প্রধান বিচারপতি বারবার তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি বলেছেন, আইনজীবী ও বিচারকদের সহযোগিতা পাওয়া গেলে সরকারের সম্মতি সাপেক্ষে শিগগিরই সান্ধ্য আদালত চালু করা হবে। উদ্দেশ্য, মামলাজট কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা। প্রধান বিচারপতির এই উপলব্ধি ও উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। তার পরও প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষ। বাড়ছে মানুষে মানুষে বিবাদ, স্বার্থের সংঘাত-সংঘর্ষ ও হানাহানির ঘটনা। সেসব কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে মামলার সংখ্যা। কিন্তু মামলার এই বর্ধিত সংখ্যার দ্রুত নিষ্পত্তির উপযোগী সম্প্রসারণ ঘটছে না বিচারব্যবস্থায়। ফলে প্রতিদিন যত মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, মামলা দায়ের হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। এতে বিচারের অপেক্ষায় থাকা মোট মামলার সংখ্যাও ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এর প্রধান একটি কারণ হলো, ১৬ কোটি মানুষের দেশে এখনো বিচারকের সংখ্যা মাত্র এক হাজার ৫০০ জন। তার পরও নেই পর্যাপ্ত এজলাস বা বিচারকক্ষ। বিচারকদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর ফলে বিচার নিষ্পত্তির হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বাড়ানো যাচ্ছে না। আর তাই প্রতিদিনই বাড়ছে মামলাজট বা মোট মামলার সংখ্যা। প্রধান বিচারপতি যথার্থই বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি সংবিধান। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একমত পোষণ করেই বলতে চাই, শ্রেষ্ঠতম এই সংবিধান নাগরিকদের যেসব মৌলিক অধিকার দিয়েছে, আমরা সেসবের যথার্থ বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আর সে ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের দাবিটি জনগণের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি।

বিচার বিলম্বিত হলে শুধু বিচারপ্রার্থীরাই বঞ্চিত হন তা নয়, অন্যায়কারী বা অপরাধীরাও নতুন নতুন অপরাধ সংঘটনে উৎসাহিত হয়। এতে সমাজের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ন্যায়বিচারের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজে মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা আশা করি, প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগে সরকার সর্বতোভাবে সহায়তা করবে। সে জন্য মামলাজট নিরসনের প্রয়োজনে পর্যাপ্তসংখ্যক বিচারক নিয়োগ করতে হবে। বিচারকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। বিচারসংশ্লিষ্ট লোকবল নিয়োগ করতে হবে। অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করতে হবে। পাশাপাশি আইনজীবী ও বিচারসংশ্লিষ্টদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগকে সর্বাঙ্গীণ সফল করতে তাঁরা সর্বতোভাবে সহায়তা করবেন।

 


মন্তব্য