kalerkantho


মৃত্যুমুখে ঢাকার মানুষ

পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ নিন

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা এখন দেড় কোটির বেশি। এই দেড় কোটি মানুষ যে কতটা অসহায় তা ভাবতেও কষ্ট হয়। নিঃশ্বাস নিতে না পারলে কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না। অথচ নিঃশ্বাস নিতে গিয়েই ঢাকার বাসিন্দারা ধীরে ধীরে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। কারণ, নিঃশ্বাসে যে বায়ু তারা ফুসফুসে টেনে নিচ্ছে, সেই বায়ু এতটাই দূষিত যে তা তাদের ফুসফুসকেই অকেজো করে দিচ্ছে। নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকা শিশু হাসপাতাল সম্প্রতি ঢাকার ১১টি এলাকায় পাঁচ শতাধিক মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালিয়ে তার প্রমাণও পেয়েছে। ফুসফুসের সক্রিয়তা বা পিএফটি (পালমোনারি ফাংশন টেস্ট) পরীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু এখানে বাসিন্দাদের কিছুই করার নেই। ঘর থেকে তাদের বেরোতেই হবে। নিঃশ্বাস নিতেই হবে। আর দূষিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিষাক্ত বাতাস ফুসফুসে ঢুকবেই। শুধু কি ফুসফুসের রোগ? ব্যাপকভাবে দূষিত পরিবেশের কারণে হৃদরোগ, লিভার ও কিডনির রোগ, এমনকি ক্যান্সারের পরিমাণও দিন দিন বেড়েই চলেছে। যাঁদের বিষয়গুলো দেখার এবং নিয়ন্ত্রণ করার কথা তাঁরা যেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে রয়েছেন। সরকারও বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করছে।

ঢাকা পৃথিবীর অন্যতম দূষিত শহরগুলোর একটি। বেশ কিছু বছর ধরেই বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা প্রথম দু-তিনটি শহরের মধ্যে থাকছে। ভারতের দিল্লি কিংবা চীনের পেইচিংও অত্যধিক দূষিত শহর। কিন্তু ঢাকার তুলনায় কম দূষিত। তার পরও সেই শহর দুটির পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ বেশি দূষিত হওয়া সত্ত্বেও ঢাকায় তেমন কোনো উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়ে না। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানো নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরেই নানা রকম নাটক চলছে। প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় রয়েছে ছোট-বড় নানা রকম কারখানা। রয়েছে হাসপাতাল-ক্লিনিকের ছড়াছড়ি। প্রায় কেউই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ধার ধারে না। যানজটের কারণে হাজার হাজার যানবাহন এক জায়গায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষ ছড়াচ্ছে। ঢাকায় স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু প্রবেশ করছে ঢাকায়। সবই খোলা অবস্থায়। ফলে ঢাকার বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণও অনেক বেশি। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ জমে থাকে এবং তা থেকে দুর্গন্ধের পাশাপাশি রোগজীবাণু ছড়ায়। ময়লা বহনকারী ট্রাকগুলোও প্রায়ই খোলা অবস্থায় চলাচল করে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলো কিংবা ভেতরে যে সামান্য কিছু খাল এখনো অবশিষ্ট আছে, সেগুলোর পানিও ভয়ংকর রকমের নোংরা। এ অবস্থায় নিয়মিত ট্যাক্স প্রদানকারী ঢাকার বাসিন্দাদের করণীয় কী? আশা করি, সরকার রাজধানীর জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেবে এবং পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগী হবে।


মন্তব্য