kalerkantho


ইউপি নির্বাচনে প্রাণহানি

পরবর্তী ধাপগুলোতে আরো সতর্ক হোন

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ইউপি নির্বাচনে প্রাণহানি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা গেলেও কিছু অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনায় সামগ্রিক সাফল্য ম্লান হয়ে গেছে বলে মনে করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় সহিংসতায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ৩৩টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়। অন্যদিকে মাদারীপুরের এক ইউনিয়নে ভোটের পরদিন সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সাতজন। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় কেউ নিহত না হলেও ভোট গণনার সময় সংঘর্ষে নিহত হন ১১ জন। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে। সহিষ্ণুতার অভাব সর্বত্র। এর প্রভাব পড়ছে তৃণমূলের রাজনীতিতেও। যার ফলে পরিবেশ সংঘাতপূর্ণ হচ্ছে। এড়ানো যাচ্ছে না সংঘর্ষ। ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ কিংবা তার পরদিন সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা হবে কেন? এ সবই অসহিষ্ণু রাজনীতির ফল। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে না।   

আমরা জানি, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দেশের তৃণমূলে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। কিন্তু এটাও সত্য যে এই তৃণমূলের নির্বাচন সব সময় সংঘাত ও সহিংসতাপ্রবণ। প্রতিবারের নির্বাচনেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। অতীতের রেকর্ড মাথায় রেখে এবার সংঘাত-সংঘর্ষ এড়াতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেই আশা করা গিয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল। এ ছাড়া সব নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনেরও নিজস্ব একটি পর্যবেক্ষণ থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সম্পর্কে কমিশন আগে থেকেই অবহিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু তার পরও এবারের নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে এসে প্রাণহানি কম হলেও তাতে নির্বাচন কমিশনের অস্বস্তি যে কমেনি, তা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য থেকেই অনুধাবন করা যায়।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। আরো চার ধাপের নির্বাচন সামনে। এ মাসেই তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন মূল্যায়ন করে নির্বাচন কমিশনকে পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। কোন কোন কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, তা বিশ্লেষণ করে আগে থেকেই সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, এবার কমিশন নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেছে, যেখানে অনিয়ম হয়েছে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। শুধু আশা প্রকাশ করলে চলবে না, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভোটগ্রহণের পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা আশা করব, পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে ভোটগ্রহণে আরো সতর্ক হবে নির্বাচন কমিশন।


মন্তব্য