kalerkantho


বাজারে বন্ড সুবিধার কাগজ

কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার করে একটি মহল প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লোপাট করছে। একশ্রেণির ব্যবসায়ী শুল্কমুক্ত সুবিধার পণ্য আমদানি করে বিক্রি করছে খোলাবাজারে।

আরো উদ্বেগের ব্যাপার হচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হাত মিলিয়িছেন প্রজাতন্ত্রের কোনো কোনো কর্মকর্তা। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদেন জানা যায়, বন্ড ফাঁকির সঙ্গে কিছু কাস্টমস কর্মকর্তাও জড়িত এবং তাঁদের খুঁজে বের করতে এনবিআরের একজন সদস্যের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের কারণে যেসব খাতের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তার অন্যতম হচ্ছে কাগজশিল্প। তৈরি পোশাক, ওষুধসহ নানা ধরনের শিল্পে মোড়কজাতকরণের (প্যাকেজিং) সুবিধার্থে কাগজ আমদানিতে শুল্ক সুবিধা রয়েছে। এই ছাড়ের অপব্যবহার করছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। তাঁরা এক ধরনের কাগজের নাম করে অন্য কাগজ এনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাগজ আমদানি করে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দেশি শিল্প।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ১৫টি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই কাগজসহ বন্ডেড সুবিধার বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রি করছে বলে তাঁদের তদন্তে ধরা পড়েছে। বুধবার এনবিআর সম্মেলনকক্ষে আগামী অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায়ও সরকারের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী মহলসহ সব পক্ষ বন্ড সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অনিয়মটি নিয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়ার বিষয়টি আশাব্যঞ্জক।

সরকার রপ্তানি উত্সাহিত করতে কিছু কিছু কাঁচামাল বিনা শুল্কে বা নামমাত্র ছাড়ে আমদানির সুযোগ দিয়েছে। এর অপব্যবহার করার অর্থই হচ্ছে একটি মহল চায় না রপ্তানি খাত সম্প্রসারিত হোক। অসাধু মহলটির অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় উত্পাদনকারীরাও। তাই অর্থলোভী মহলটি আমদানি ও রপ্তানি দুই খাতের জন্যই বড় হুমকি হয়ে আছে।

চিহ্নিত ১৫টি প্রতিষ্ঠান ৩৪১ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কারণে প্রকৃত ও সত্ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মধ্যেও পড়েছেন। নিয়মিত লোকসান গুনে তাঁদের অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। বুধবার এনবিআরের সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আমরাও মনে করি, দেশি শিল্পের সুরক্ষায় বন্ডের অপব্যবহার রোধের কার্যকর কৌশল বের করতে হবে। কাগজসহ বিভিন্ন খাতের বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি করেছে। হাতে গোনা কিছু ব্যবসায়ী অনিয়ম করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হবে আর আমাদের কারখানার খেটে খাওয়া মানুষগুলোর পেশা হুমকির মুখে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। যে মহলটি দেশি শিল্প ধ্বংস করছে, সরকারকে বঞ্চিত করছে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে, তারা এককথায় জাতির শত্রু। তাই চিহ্নিত ১৫ প্রতিষ্ঠানই শুধু নয়, আরো যারা এই অপকর্মে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে উচিত ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাড় দেওয়া উচিত হবে না দোষী কাস্টমস কর্মকর্তাদেরও।


মন্তব্য