kalerkantho


অযথা হয়রানি কাম্য নয়

রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



অযথা হয়রানি কাম্য নয়

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা জনগণ করে আসছে অনেক দিন ধরেই। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

দেশ ও জনগণের স্বার্থে হাত ধরাধরি করে পাশাপাশি পথ চলার মনোভাব কোনো রাজনৈতিক দলের আছে বলে মনে হয় না। সব দলেরই লক্ষ্য ও মোক্ষ ক্ষমতা। রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহারও তাই লক্ষণীয়। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে আসার পরও আমাদের গবেষণা করতে হয়। রাজনৈতিক দলগুলো এখন পর্যন্ত জনকল্যাণমুখী নয়, এমন অভিযোগ শোনা যায়। ক্ষমতামুখী রাজনৈতিক দলগুলোয় ব্যক্তিপূজা প্রধান হয়ে উঠছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ আপাতত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যতই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হোক, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।

আমাদের দেশে রাজনীতিতে পারস্পরিক ছিদ্রান্বেষণের ধারাবাহিকতা চলে আসছে।

রাজনৈতিক দলগুলোতে পরমতসহিষ্ণুতা নেই। আছে আস্থার সংকট। রাজনৈতিক আচরণও গণতান্ত্রিক নয়। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আমাদের দেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ঘাটতি যে আছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই অবস্থা কারো কাম্য নয়। দেশের মানুষ দেখতে চায়, রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক আচরণ করছে। সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল পরস্পরের প্রতি আস্থা রাখছে। রাজনীতিতে বিতর্ক থাকবে। এক দল আরেক দলের কঠোর সমালোচনা করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো দল ‘দেখতে নারি চলন বাঁকা’ নীতি গ্রহণ করবে না। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সব দলেরই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যে সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারে অন্যান্য রাজনৈতিক দল। কিন্তু আমাদের দেশে এমন উদাহরণ আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। ফলে রাজনীতি এখনো মারমুখী। এখানে বিরোধী দলের লক্ষ্য সরকারকে কিভাবে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানো যায়। অন্যদিকে সরকারও বিরোধী দলগুলোকে নিষ্ক্রিয় রাখতে বেছে নেয় দমন-পীড়ন। দীর্ঘদিন ধরেই এ চর্চা চলছে। এর অনিবার্য ফলও আমরা দেখেছি। আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে। রাজপথে মানুষের প্রাণ গেছে। কত পরিবার যে প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তার হিসাব রাখেনি দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল।

এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মডেল। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বিস্মিত। কিন্তু রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাবে এই অগ্রযাত্রা কতখানি অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। কাজেই আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। দেশের রাজনীতিতে সুস্থধারা ফিরিয়ে আনার নৈতিক দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। রাজনীতিকে রাজনীতির মতো করে চলতে দিতে হবে। পারস্পরিক সহমর্মিতায় দেশের রাজনীতি জনমুখী হবে, গঠনমূলক হবে—এ প্রত্যাশা সবার।   এ জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। আমরা আশা করব, কেবল বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতার পথে যাবে না বিরোধী রাজনৈতিক দল। তেমনি সরকারও অযথা হয়রানির পথ বেছে নেবে না। সত্যিকারের গণতন্ত্রচর্চা এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে পারলেই নিশ্চিত করা যাবে জনকল্যাণ।


মন্তব্য