kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


চামড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

রাজধানী থেকে ট্যানারি সরাতেই হবে

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর হাজারীবাগের কোনো ট্যানারিতে ১ এপ্রিল থেকে পশুর চামড়া ঢুকতে দেওয়া হবে না। কেউ চামড়া বিক্রি করতে গেলে তাকেও আটক করা হবে। স্থানান্তরে বহুবার সময় বেঁধে দেওয়ার পরও শিল্পমালিকরা গড়িমসি করায় শিল্প মন্ত্রণালয় এই কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।

২০১৩ সালে প্লটের নকশা অনুমোদনের পর থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য প্রকল্প পরিচালক ২৮ বার তাগিদ দিয়েছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সর্বশেষ আলটিমেটাম আজ শেষ হচ্ছে। যেসব অজুহাত ব্যবসায়ীরা দিয়ে এসেছেন তার অন্যতম হচ্ছে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) চালু না হওয়া। তবে চামড়া শিল্পনগরীতে এর মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে সিইটিপি চালু হয়েছে। আবার একতরফা ব্যবসায়ীদেরও দায়ী করা যায় না। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিইটিপি চালু হলেও তা পরীক্ষামূলক ও বর্জ্য নিষ্কাশন লাইনের আংশিক কাজ এখনো বাকি। কোনো উদ্দেশ্য তখনই পুরো সফল হয় যখন সব পক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে।

এমনিতেই ঢাকা পৃথিবীর বাস-অযোগ্য নগরীগুলোর অন্যতম। পৃথিবীর কোথাও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন পরিবেশদূষণকারী কারখানা রাখার বিধান নেই। অথচ আমাদের ট্যানারিগুলো দিনের পর দিন ভয়াবহভাবে পরিবেশ দূষণ করে যাচ্ছে। এসব কারখানায় ব্যবহৃত বিষাক্ত সব রাসায়নিক দ্রব্যের বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই ফেলে দেওয়া হচ্ছে। বর্জ্য পড়ার ফলে বুড়িগঙ্গায় এখন মাছ তো দূরের কথা, জলজ কীটও দেখা যায় না। মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নানাভাবে। কারখানা সরানোর জন্য সাভারে জমি দেওয়া হয়েছে। ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণও দেওয়া হচ্ছে। এর পরও সাভারে কারখানা সরানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা গড়িমসি করছেন। এটা দায়িত্বশীল

আচরণ নয়।

চামড়া ঢুকতে না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তটিও যেন ঘোষণার মধ্যেই শেষ না হয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে হবে। আশা করি, শিল্পমালিকরাও সরকারের এই কঠোর অবস্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত তাদের করণীয় সম্পন্ন করবেন। ট্যানারি স্থানান্তরের ব্যাপারে জাতীয় মতৈক্য রয়েছে। কারণ কারো ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে বৃহত্তর ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না। চামড়া খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। কিন্তু পরিবেশ-প্রতিবেশের স্থায়ী ক্ষতি ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি হুমকির বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বৈদেশিক আয় গণনাযোগ্য, কিন্তু মানুষ বা পরিবেশের যে ক্ষতি তা অপরিমেয়। আশা করি, চামড়াশিল্পের মালিকরা মানুষ, পরিবেশ ও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের কারখানা নির্ধারিত এলাকায় সরিয়ে নেবেন।


মন্তব্য