kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আর কত সোহেলের প্রাণ যাবে

ছাত্রলীগে শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আর কত সোহেলের প্রাণ যাবে

এবার ছাত্ররাজনীতির বলি হলেন চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর ছাত্র নাসিম আহমেদ সোহেল। ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠনের দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গোলযোগে প্রাণ দিতে হলো তাঁকে। তাঁর মৃত্যুতে একটি পরিবারের স্বপ্ন মিশে গেল মাটিতে। ছাত্ররাজনীতির কলুষিত একটি দিক নতুন করে উঠে এলো সবার সামনে।

ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সোহেলের নিহত হওয়ার ঘটনার নেপথ্যের কারণ খুবই সামান্য। বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায়ী অনুষ্ঠান নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ যায় সোহেলের। একা সোহেলই তো ছাত্রলীগের প্রথম বলি নন; এর আগে আরো অনেক হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের নাম এসেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী বন্ধুকে অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে হত্যা থেকে শুরু করে অনেক হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের নাম এসেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নানা অপকীর্তির সঙ্গে জড়িয়ে যায় ছাত্রলীগের নাম। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির পাশাপাশি দখলবাজিতেও ব্যবহৃত হতে থাকে ছাত্রলীগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবদমান পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বে প্রাণ গেছে অনেক ছাত্রলীগকর্মীর। সরকারের অর্জন ধুলায় মিশিয়ে দিতে শুধু ছাত্রলীগই যথেষ্ট—এমন কথা হামেশাই শোনা যায়। অথচ বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজ হাতে গোনা কিছু নেতাকর্মীর অপকর্মের কারণে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা জন্ম নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এমনিতেই ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে মানুষের মনে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন যদি এভাবে হন্তারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তাহলে তো আর বলার কিছু থাকে না।

আমাদের ছাত্ররাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। শুধু ক্ষমতা দেখানো যে ছাত্ররাজনীতির মোক্ষ নয়, তা ছাত্রনেতাদের যেমন বুঝতে হবে, তেমনি দলীয় নেতাদেরও উপলব্ধি করতে হবে। দলীয় নেতারা কেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করবেন? ছাত্রলীগ কেন একটি অনুশীলনভিত্তিক সংগঠন না হয়ে ঠ্যাঙাড়ে সংগঠনে পরিণত হবে? আমরা সোহেল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমাদের দাবি। এর মধ্যেই ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে সোহেল হত্যায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি করা হচ্ছে অজ্ঞাত আরো ২০ থেকে ২৫ জনকে। কিন্তু মামলা যেন কেবল তদন্তে থেমে না থাকে। ক্ষমতা কিংবা কোনো নেতার প্রভাবে যেন মামলাটি হারিয়ে না যায়। সোহেল হত্যাকাণ্ডে মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে, বাধাগ্রস্ত হবে না, এই নিশ্চয়তা প্রয়োজন। দলীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও আজ ছাত্রলীগ নিয়ে ভাবতে হবে। সরকার ও দলের ভাবমূর্তি কোনো সহযোগী সংগঠনের গুটিকয়েক নেতাকর্মীর কারণে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। কাজেই ছাত্রলীগে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। সংগঠনটিকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। তবে সবার আগে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া জরুরি।


মন্তব্য