kalerkantho


জাপানের উন্নয়ন সহায়তা

দেশের স্বার্থেই অগ্রাধিকার দিতে হবে

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কোনো একক দেশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং সবচেয়ে পরীক্ষিত বন্ধু দেশ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সাড়ে চার দশকে জাপান বাংলাদেশকে যে পরিমাণ ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, তার ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো দেশ।

তদুপরি জাপানই একমাত্র দেশ, যে কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর চেষ্টা করে না, প্রভাব বিস্তার, অন্যায় স্বার্থ আদায় বা খবরদারি তো নয়ই। ভূ-রাজনীতির কোনো বিপজ্জনক বাঁকের দিকেও জাপান কখনো বাংলাদেশকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেনি। এমনকি ঋণের সুদ হিসেবে জমে যাওয়া যে পরিমাণ অর্থ জাপান বাংলাদেশকে মওকুফ করেছে, তাও এ পর্যন্ত কোনো দেশ করেনি। তা সত্ত্বেও জাপান সম্প্রতি বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে পিছিয়ে পড়ছে। পিছিয়ে পড়ছে জাপানের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে নয়; বরং বাংলাদেশই যেন জাপানের সহযোগিতা নিতে পিছিয়ে পড়ছে। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে জাপান যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু ভূ-রাজনীতির কোনো অদৃশ্য সুতার টানে বাংলাদেশ নিজেই সেই সমুদ্রবন্দর নির্মাণ থেকে পিছিয়ে এসেছে। গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণেও জাপানের আগ্রহ ছিল। জানা যায়, প্রতিবেশী দেশের অনাগ্রহের কারণে সেই প্রকল্প থেকেও বাংলাদেশ পিছিয়ে এসেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ থেকেও জাপান বঞ্চিত হয়েছে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের এই ঘাটতি উন্নয়নসংশ্লিষ্ট অনেকের কাছেই বড় ধরনের প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ৪৪ বছরে পদার্পণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিধ্বস্ত বাংলাদেশে, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাপান সরকার দৃঢ় পদক্ষেপে এসে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে জাপানে যে আন্তরিক ও সর্বোচ্চ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, জাপানের ইতিহাসে তা এক বিরল ঘটনা। জাপানের বাড়িয়ে দেওয়া সেই হাত আজও অব্যাহত আছে। ২০১৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর এবং সেপ্টেম্বর মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কে পুনরায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা জেগেছিল। অনেক দেশই সহযোগিতার পেছনে নিজস্ব স্বার্থ আদায়ের অদৃশ্য হাত বাড়িয়ে রাখে। অসম শর্তে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশকে ব্যবহারের চেষ্টা করে। সে কারণে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য নানাভাবে তদবির করে। কিন্তু জাপান তা করে না। তাই কোনো আর্থিক সহায়তা নেওয়ার বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যেক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি কি না সে ব্যাপারে আমাদেরই সচেতন থাকতে হবে। এসব ক্ষেত্রে জাপান যেহেতু বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু, তাই জাপানের প্রস্তাবগুলো সর্বোচ্চ বিবেচনা পাওয়ার দাবি রাখে। আশা করি, আমাদের নীতিনির্ধারকরা এসব ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দেবেন।


মন্তব্য