kalerkantho


দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন

দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ৬৪৪টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হবে কাল বৃহস্পতিবার। গত সোমবার থেকে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত এসব এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

যান্ত্রিক অন্যান্য বাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত। নির্বাচনী প্রচার বন্ধ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে। এরই মধ্যে এসব নির্বাচনী এলাকা থেকে সংঘর্ষের খবর এসেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের ১০৩ জন প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১২টি ইউনিয়নের দখল নিতে আওয়ামী লীগ বেপরোয়া বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অন্যদিকে ভোলার ১২টি ইউনিয়নের ১১৭টি কেন্দ্রের ১০১টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনে যে হারে সংঘর্ষ-সহিংসতা হয়েছে, তাতে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন নিয়েও জনমনে আশঙ্কা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রথম ধাপের নির্বাচনে নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা শতাধিক।

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হলেও বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন বরাবরই সংঘর্ষপ্রবণ। সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেনি এমন উদাহরণ, বিশেষ করে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পাওয়া যাবে না। এসব সংঘাত-সংঘর্ষের নেপথ্যে নেতৃত্বের কোন্দলই মূলত দায়ী। এবারের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে ও দলীয় প্রতীকে হওয়ায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই তৃণমূলে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের লড়াইয়ে নেমেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন উভয় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, যাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচিত। ফলে এবারের নির্বাচন হচ্ছে ত্রিমুখী। অন্যান্যবার রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ সমর্থন থাকলেও এবার সরাসরি মনোনয়ন দেওয়ায় রাজনীতির রং লেগেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। ফলে প্রার্থীরা জয়লাভে মরিয়া। আমাদের দেশে কোনো নির্বাচনেই পরাজয় মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি নেই।  

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কাজেই এই নির্বাচনে ভালোমন্দের দায় কমিশনের ওপরই বর্তায়। নির্বাচন কমিশনকে তাই কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রথম ধাপের নির্বাচনে যে বিচ্যুতিগুলো ঘটেছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ধাপে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসন থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। কাজেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচালনায় কমিশনকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। সব নির্বাচনী এলাকার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সম্পর্কে আগে থেকেই সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশনের দক্ষ পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ভোটগ্রহণ হবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। নির্বাচনোত্তর সংঘাত-সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


মন্তব্য