kalerkantho


বিমানে নেতৃত্বে পরিবর্তন

দুর্নীতি হটিয়ে লাভজনক করতে হবে

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০




বিমানে নেতৃত্বে পরিবর্তন

বিমান বাংলাদেশ বহু বছর ধরেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্রতিষ্ঠানটি লোকসান থেকে বের হতে পারছে না কিছুতেই।

বিমানে দুর্নীতি ও অনিয়মই নিয়ম। স্বার্থান্বেষীরা বছরের পর বছর বিমানকে পঙ্গু করে রেখে নিজেরা আখের গোছায়। এই প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা নিয়ে অনেক কথাই হয়। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি বললেই চলে। ফলে রাষ্ট্র যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যাত্রীরাও বাধ্য হচ্ছে বিদেশি বিমানে চড়তে।

বিমানের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে সমালোচনা দীর্ঘদিনের। জবাবদিহি নেই। চলে স্বেচ্ছাচারিতা। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তো নৈমিত্তিক ব্যাপার।

গত বছর পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও নতুন নেতৃত্ব আসেনি। এরই মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে প্রথমে অস্ট্রেলিয়া, তারপর ব্রিটেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সমস্যা নতুন মাত্রা পায়। এরপর বিনা টেন্ডারেই তড়িঘড়ি এক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানকে কার্গো এলাকার নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ খবর হচ্ছে, বিমানের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দিয়ে পর্ষদ (বোর্ড) পুনর্গঠন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সিভিল এভিয়েশন ও বিমানের বিরোধের কারণেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা যাচ্ছিল না। সে কারণেই সিভিল এভিয়েশনের  চেয়ারম্যানকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিমানের সেবার মান বাড়াতে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানকে লিমিটেড কম্পানি করা হয়েছিল। তবে সেবার মান, দক্ষতা, স্বচ্ছতা  কোনোটিই বাড়েনি। উল্টো বিভিন্ন সময়ে বিমানের কেনাকাটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দু-একজন প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তির অঙ্গুলি হেলনে চলছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠান। কারোর জবাবদিহি নেই। বছরের পর বছর মোটা অঙ্কের লোকসান লেগেই আছে। কমছে যাত্রীসংখ্যা। নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় না পরিচালনা পর্ষদের সভা। বছর তিনেক আগে সংস্থাটির অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ আছে, তার একটি বড় অংশই কর্মকর্তাদের পকেটে চলে গেছে। বিমানের কোনো কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সোনাসহ বিভিন্ন চোরাচালানে সম্পৃক্ততার অভিযোগও মিলছে। ফলে দেশে তো বটেই, বিদেশেও বিমানের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে।

২০০৭ সালে বাংলাদেশ বিমান করপোরেশনকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড কম্পানিতে রূপান্তরিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিমানের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। বর্তমানে বিমানের শতভাগ শেয়ারের মালিকানা সরকারের। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ সরকারই গঠন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর করার মহৎ লক্ষ্য সামনে রেখেই যেকোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে। একটি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর লোকসানি হয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে থাকবে আর সরকার তা চেয়ে চেয়ে দেখবে, এমনটি প্রত্যাশিত নয়। গত বছর কালের কণ্ঠ’র এক শীর্ষ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল : ‘দুর্নীতির আকাশ ছুঁয়েছে বিমান’। সংকটের সেই মেঘ থেকে বিমান বের হতে পেরেছে, এমন দাবি কেউ করতে পারবে না। বরং কার্গো এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব বিদেশিদের দিতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা থেকে বলা যায়, আমরা আরো পিছিয়ে পড়েছি।

বিমানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে যাত্রীসাধারণসহ সবারই আশা, লাল-সবুজ পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিপরায়ণ, অসৎ ও অদক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খপ্পর থেকে মুক্ত করা হবে।


মন্তব্য