kalerkantho


কলেজে শিক্ষক সংকট

শূন্যপদ পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রতিবছর দেশের যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তার অধিকাংশই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সিংহভাগ শিক্ষার্থীকে ভর্তি হতে হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

দেশের সরকারি কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হয়। কিন্তু সরকারি কলেজগুলোতে পদের বিপরীতে শিক্ষকের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই শিক্ষাপঞ্জি অনুসরণ করতে গিয়ে বিপদে পড়তে হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষকের ১৫ হাজার ২৮৯টি পদের বিপরীতে অধ্যাপক পদ ২০৪টি, সহযোগী অধ্যাপক ১৩১টি, সহকারী অধ্যাপক ৩৩৮টি ও প্রভাষক পদ তিন হাজার ১২৭টি শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম কিভাবে চলছে তা বলাই বাহুল্য। শিক্ষকদের অনেকে দেশের বিভিন্ন কলেজে সংযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন। শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অনেক বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সংযুক্ত শিক্ষকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু সরকারি সব প্রতিষ্ঠান থেকে সংযুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সংযুক্তি বাতিল করে বিভিন্ন কলেজে পদায়ন করা হচ্ছে। তাতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বিপদে পড়েছে। শিক্ষক সংকটে  শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করার কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক এখন সরকারি কলেজগুলোতে প্রয়োজন, তা পূরণ করতে হলে প্রতিবছর অধিকসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিবছর বিসিএসের মাধ্যমে যে সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, প্রায় একই সংখ্যক শিক্ষক প্রতিবছর অবসরে যান। ফলে শিক্ষক সংকট কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকট দূর করতে হলে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রভাষকের শূন্যপদ পূরণের জন্য প্রয়োজনে শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অন্যদিকে ওপরের পদে শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে।

এটা ঠিক যে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের বিপরীতে অধিকসংখ্যক শিক্ষক সংযুক্তি নিয়েছিলেন। সব শিক্ষকের সংযুক্তি একযোগে বাতিল করায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়বে। কাজেই সব শিক্ষক নয়, পদের অতিরিক্ত শিক্ষকদের সংযুক্তি বাতিল করা যায় কি না, সে বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা আশা করব, শূন্যপদ পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। শিক্ষার স্বার্থে দূর করা হবে শিক্ষক সংকট।


মন্তব্য