kalerkantho

25th march banner

বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারা অসহায়

অবিলম্বে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হোক

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের মা-বোনরাও দেশের জন্য, স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন, তাঁদের কেউ কেউ সম্ভ্রমও হারিয়েছেন। দেরিতে হলেও সরকার বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রথম দফায় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৪১ জনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১১ জন। তবে আমাদের আঞ্চলিক প্রতিনিধি বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখেছেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই নারীদের কী দুর্দশা! সাড়ে পাঁচ মাসেও তাঁদের কাছে অনুদান, ভাতা বা সম্মানী পৌঁছেনি। ভিক্ষা করে, ধান কুড়িয়ে বা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবন চলছে তাঁদের। স্বাধীনতা দিবসে এমন খবর আমাদের খুব ব্যথিত, ক্ষুুব্ধ ও হতাশ করে।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দল আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায়। তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পেয়ে গত বছরের অক্টোবরে তারা বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাড়ানো হয়েছে সব মুক্তিযোদ্ধার ভাতা। প্রথম দফায় ৪১ জন বীরাঙ্গনাকে স্বীকৃতিদানের পর সবাই ভেবেছিল, ভাতাসহ সব সুবিধা নিশ্চয়ই খুব দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, গঞ্জনার পর রাষ্ট্রের স্বীকৃতি জুটেছে। তাই পথ চেয়ে বসে ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীরাঙ্গনারাও। সহায়তা আসবে। অন্তত জীবনের বাকি দিনগুলো কিছুটা ভালো কাটবে। বেশ কিছুদিন আগেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৪১ বীরাঙ্গনার জন্য গত বছরের জুলাই থেকে আট হাজার টাকা করে ছয় মাস এবং এ বছরের প্রথম দুই মাস ১০ হাজার করে মাথাপিছু ৬৮ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আমাদের সরকারি ফাইল চলতে চায় না। তাই বলে অসহায়, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ফাইলও লাল ফিতার ফাঁদে পড়বে? স্বীকৃতি দিতে রাষ্ট্রের সময় লেগেছে ৪৪ বছর। এবার ভাতা পেতেও অপেক্ষা করতে হবে মাসের পর মাস?

দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করা বীর সেনাদের অনেকেই আজ ভালো নেই। ক্ষুুধার তাড়নায় কিংবা চিকিৎসার পয়সা জোটাতে না পেরে মনোদৈহিক যন্ত্রণায় কোনো কোনো মুক্তিযোদ্ধার আত্মহননের মতো দুঃসংবাদও আমাদের সহ্য করতে হয়। দেশ অনেক এগিয়েছে। অনেক সূচকই ঊর্ধ্বগামী। শহরে-নগরে আকাশচুম্বী অট্টালিকার সারি। উন্নয়নের জোয়ার গ্রামেও পৌঁছে গেছে। তবে আমাদের এমন লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যাঁদের জীবনে পরিবর্তনের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। সবার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। এ ব্যর্থতা গোটা জাতির। বীরাঙ্গনাসহ সব মুক্তিযোদ্ধার যথাসময়ে ভাতাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক। সব উন্নয়ন হোক বৈষম্যহীন।


মন্তব্য