kalerkantho


নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা

পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবস্থা নিন

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা

নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতায় ২১ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন হলেও নির্বাচনোত্তর সহিংসতা থেমে নেই।

আবার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন স্থানে উত্তাপ ছড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি সংখ্যালঘুদের ওপরও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষ নতুন নয়। যদিও তৃণমূলের এই নির্বাচন ঘিরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনী সংঘাত বাড়ল কেন? প্রথমত, এবারের নির্বাচন হয়েছে দলীয় প্রতীকে। রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রিয়তা যেমন এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাচাই হয়েছে, তেমনি তৃণমূল নেতৃত্বও নিজেদের দলের জনপ্রিয়তা প্রমাণে সচেষ্ট ছিল। অন্যদিকে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ায় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূল নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। মনোনয়ন না পাওয়া অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আবার এলাকাবিশেষে নির্দলীয় অথচ জনপ্রিয় প্রার্থী থাকাও অস্বাভাবিক নয়।

আবার দলীয় ক্ষমতাসীনদের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া ও জয়ী করার প্রবণতাও এবারের নির্বাচনে লক্ষ করা গেছে। তৃণমূলের মনোনয়ন কেন্দ্রে এসে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর যেকোনো প্রার্থীর হতাশ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন যে সংঘাতপূর্ণ হতে পারে, তার আগাম পূর্বাভাসও ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে কতটা সজাগ ও সতর্ক ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।

ভোটের আগে ও পরে নির্বাচনী সহিংসতায় ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহণের দিন মঠবাড়িয়ায় প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে এই প্রাণহানি এড়ানো যেত কি না? দেশের যেকোনো নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা থাকে। এবারও ছিল। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা নিশ্চয়ই করেছিল। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও কেন্দ্র নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনও নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকার কথা। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব প্রতিবেদন বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? কোনো ব্যবস্থা নিলে তো এভাবে প্রাণহানি ঘটার কথা নয়। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতার কারণেই সংঘাত-সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেছে? আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডও কি বিতর্কের ঊর্ধ্বে? অনেকে বলেছেন, সংঘাত থামাতে প্রাথমিক ব্যবস্থা, যেমন—কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট, ফাঁকা গুলি ব্যবহার না করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে কাদের অতি উৎসাহের কারণে? লাঠিচার্জ করলে বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে কিংবা ফাঁকা গুলি চালালে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটত না বলেই পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রথম ধাপের নির্বাচন থেকে কমিশন কি কোনো শিক্ষা নিয়েছে? শিক্ষা নিয়ে থাকলে ধারণা করা যেতে পারে, আগামী ধাপের নির্বাচনগুলো যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া হবে। অন্যথায় পরবর্তী ধাপগুলোতে সহিংসতা ও সংঘাত-সংঘর্ষ বাড়বে। আমরা আশা করব, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করবে না। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।


মন্তব্য