kalerkantho

25th march banner

এ মৃত্যুর দায় কে নেবে

সুষ্ঠু তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত মঙ্গলবার। নির্বাচনের দিন দেশের পাঁচ জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার একটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। কক্সবাজারে দুজন ও নেত্রকোনায় একজন নিহত হয়েছেন পুলিশের গুলিতে। ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। উভয় কমিটি সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। মঠবাড়িয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক হাজার ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে পুলিশ। কেন্দ্র ঘেরাও করে ব্যালট ছিনতাই ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, নিহতদের সবাই সাধারণ মানুষ। মঠবাড়িয়ায় নিহতদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, কী এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি গুলি চালাতে হবে? উদ্ভূত পরিস্থিতি কি অন্য কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যেত না? উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার নানা উপায় আছে। লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। মঠবাড়িয়ায় সরাসরি গুলি চালাতে হলো কেন? প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এমনিতেই যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনপূর্ব সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনায় আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কমিশন কি তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে? সংঘাত-সহিংসতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে এভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না বলে আমরা মনে করি। নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিলে অনেক অঘটন ও প্রাণহানি এড়ানো যেত।  

ভোটগ্রহণের দিন প্রাণহানির ঘটনা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনা তদন্তে কমিটি হয়েছে। আমরা আশা করব, সুষ্ঠু তদন্ত হবে। এই প্রাণহানির দায় কার, তা নিরপেক্ষ বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসবে। সামনে আরো কয়েক ধাপ নির্বাচন হবে। গত মঙ্গলবারের ঘটনা থেকে নির্বাচন কমিশন শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা মনে করি।


মন্তব্য