kalerkantho


সম্পর্কে নতুন উচ্চতা

দারিদ্র্য জয়ে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার সফল হোক

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সম্পর্কে নতুন উচ্চতা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ এবং ব্যান্ডউইডথ বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরো বড় উচ্চতায় পৌঁছাল। ভারত থেকে আসা বিদ্যুৎ আমাদের জ্বালানি ঘাটতি হ্রাসে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ আমদানি ও ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি শুরুর দিনটি দুই দেশের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একা দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়া যায় না, দরকার যৌথ উদ্যোগ। অন্য প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নৌ, স্থল ও আকাশ পথের পর মহাকাশেও বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় ভারত। মহাকাশবিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে থাকা একটি দেশের সরকারপ্রধানের এমন আশ্বাস অসীম সম্ভাবনার ব্যাপারে আমাদের আশাবাদী করে। নরেন্দ্র মোদি অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আমরা মনে করি, দুই প্রধানমন্ত্রীর আশা-জাগানিয়া বক্তব্য সীমান্তের দুই পারের মানুষকেই ছুঁয়ে যাবে।

ভারত বড় অর্থনীতির দেশ বলে তাদের দিকে বিশ্বের অনেকেরই চোখ। আয়তনে ছোট হলেও বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল জনশক্তি।

শুধু প্রতিবেশী দেশ বলেই নয়, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটসহ নানা ভূরাজনৈতিক কারণে ভারতের কাছে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যেমন গতকাল বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইডথ বিনিময় প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সরঞ্জামাদি নিতে না পারলে তাদের পালাটানা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়তো সম্ভব হতো না। এরপর এবার এই বিদ্যুৎকন্দ্র থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পাওয়া সহযোগিতা আর সম্পর্কের যে শক্তি সেই শক্তির কথাই মনে করিয়ে দেয়।

বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখানে কারো কারো মধ্যে দ্বিধা ছিল। তবে নরেন্দ্র মোদির ইতিবাচক ও বন্ধুত্বসুলভ পররাষ্ট্রনীতির সুবাদে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় ওঠে। বহু বছর ঝুলে থাকা স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে ছিটমহলের মানুষ। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পর দুই দেশের অঙ্গীকারগুলো একে একে পূরণ হচ্ছে। দুই দেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে। বাণিজ্য সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। দুই দেশই পরস্পরের স্বার্থ দেখছে। সব মিলিয়ে আস্থার স্থানটি সুদৃঢ় হচ্ছে।

একাত্তরে ভারত ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। এমন একটি বন্ধুপ্রতিম দেশ যখন বড় অর্থনীতিরও অধিকারী হয় তখন তাদের থেকে প্রাপ্তির অনেক কিছুই থাকে। এই ধারাবাহিকতায় সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ একা নয়, ভারতও উপকৃত হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ভালো। তবে শুল্ক ছাড়সহ কিছু কিছু খাতে ভারতের অনেক করণীয় রয়েছে। সীমান্তে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও বন্ধ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে তাদের তরফে আরো বেশি সহনশীলতা প্রত্যাশিত।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বই উন্নয়নের বড় কৌশল হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এই পথ ধরেই উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। জোরালো হচ্ছে দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বন্ধন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক কিভাবে মধুর করা যায়, বাংলাদেশ ও ভারত স্বার্থ আদান-প্রদানের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত  রেখেছে। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থেই এই সম্পর্ক হোক অবিচ্ছেদ্য। দারিদ্র্য বিমোচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে তা-ও সফল করে তুলতে হবে।


মন্তব্য