kalerkantho


আবার ভিন্নধর্মাবলম্বী হত্যা

এই অপতত্পরতা রুখতে হবে

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্নধর্মাবলম্বী বা ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনা থেমে নেই। হামলা হয়েছে বিদেশিদের ওপরও।

এসব হামলার পর একটি বিদেশি ওয়েবসাইট থেকে আইএসের দায় স্বীকারের দাবিও করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে কুড়িগ্রামে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীকে। একের পর এক একই ধরনের ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে ঘাতকরা এখনো তত্পর। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ একসঙ্গে বাস করবে। আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ইতিহাস বলে এখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ছিল না, এখনো নেই। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে যেমন রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে, তেমনি ভিন্নমতের মানুষকে আঘাত করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখেই চলছে এই অপতত্পরতা। এর নেপথ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী যে সম্পৃক্ত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অসাম্প্রদায়িক দেশ হলেও একসময় আমাদের দেশে সরাসরি ধর্মীয় মৌলবাদকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়েছে। সে পৃষ্ঠপোষকতা এখনো বিদ্যমান। বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী বিপরীত মতের প্রতি বিষোদ্গার করেছে। ব্লগার হত্যা থেকে শুরু করে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের হত্যা ও হত্যাচেষ্টা তারই ধারাবাহিকতা। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার হওয়া দরকার ছিল। একটি ঘটনা ঘটার পর দেখা যায় তদন্ত করতেই অনেক সময় পার করে দেওয়া হয়। এরপর বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, তদন্তের দুর্বলতার কারণে অপরাধ প্রমাণিত হয় না। অপরাধীরা ধরা পড়ার পরও অনেক সময় আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবার অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত হয়। ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক সংগতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা যুক্ত হয়ে তাদের অপরাধে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। এ তত্পরতা রোধ করতে হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজনৈতিক তত্পরতাও বৃদ্ধি করতে হবে। দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে অনেক সময় ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীভুক্ত করা হয়। এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।  

আমরা আশা করব, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিহত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে অতিদ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করবে। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই আমাদের কাম্য।


মন্তব্য