kalerkantho


দুর্নীতির আখড়া বিবিএস

দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশের জনমিতি, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে থাকে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। তবে পরিসংখ্যানের জাতীয় প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে।

অটোমেশনের নামে লুটপাট, হালনাগাদ তথ্য দিতে না পারা, মনগড়া তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এবার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি নিয়ে। কর্মকর্তারা যে যেভাবে পারছেন সরকারি অর্থের অপচয় করছেন। সরকারি টাকা তছরুপ করে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে কেনা হচ্ছে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি। ফলে অল্প দিনেই সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ছে।

সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নিয়মিত উদ্বেগ ব্যক্ত করা হলেও সমাধান মিলছে না। দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়া যায় বলে একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়। বিবিএস অটোমেশনের নামে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে আবারও হাতে তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতিতে ফিরেছে।

জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেবে না শর্তে তিন কোটি টাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানো হয়। ব্যবস্থাটি এখন প্রায় অকেজো। অভিযোগ আছে, চলতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পোস্টারও ছাপা হয়েছে তাঁদের প্রেসে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অফিসের সক্ষমতা বাড়ায়। বিবিএসের এই খাতে অর্থ ব্যয় ঠিকই ছিল কিন্তু অনিয়মের কারণে প্রযুক্তির সুবিধা আর নেওয়া হয়নি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসা-যাওয়ার সময় নজরদারিতে রাখতে ২২ লাখ টাকা দিয়ে দুটি যন্ত্র (ফ্ল্যাট ব্যারিয়ার) কেনা হয়েছিল। সেগুলো অকেজো অবস্থায় আছে। বিবিএসের পুরনো ২৩টি জেলা অফিসের হাজিরার ‘অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম’ সফটওয়্যারও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কেউ নিজেদের স্বার্থে ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ করেছে কি না তা খতিয়ে দেখে মেরামতের উদ্যোগ নিতে হবে।

সরকারি দপ্তরগুলোতে অনিয়মই যেন নিয়ম। সরকারি ক্রয় মানেই কোনো কোনো কর্মকর্তার বাণিজ্য। যত বড় ক্রয়, কমিশনও তত বেশি। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, নিম্নমানের জিনিস কিনে বেশি দাম দেখানো, ক্রয়ের পর ব্যবহার না করা, অযত্ন-অবহেলায় ফেলে রাখা—এককথায় শেষ নেই অভিযোগের। যত দুর্নীতি হয় তার কমই ধরা পড়ে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির তো আরো কম। প্রশ্রয়ের এই সংস্কৃতি দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের নতুন নতুন অপরাধের সুযোগ করে দেয়, তেমনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন নীতিবান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

যে প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রের তথ্য জাতিকে পরিবেশন করে থাকে, প্রত্যাশা ছিল তারা শতভাগ স্বচ্ছ থাকবে। উল্টো এর কর্মকর্তারা আখের গোছাচ্ছেন—জাতির জন্য এ বড় দুঃসংবাদ। আমরা আশা করব, অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুৎঠার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য