kalerkantho


ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা

পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে ভাবুন

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে গতকাল মঙ্গলবার ৭১৭টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আদালতের আদেশে ভোলার পাঁচটি ইউপিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। ফলে গতকাল ভোট হয়েছে ৭১২টি ইউপিতে। প্রথম ধাপের আরো ১১টি ইউনিয়নে আগামীকাল ও দুটিতে ২৭ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর চার স্তরের নিরাপত্তা কিংবা নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা সত্ত্বেও গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হাতিয়ায় খুব সকালে নির্বাচনকেন্দ্রে যাওয়ার পথে দুই নির্বাচন কর্মকর্তাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একটি কেন্দ্রে বোমা বিস্ফোরণে ছয়জন আহত হয়েছে। সাতক্ষীরায় ভোটকেন্দ্রে গোলযোগের সময় পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে কয়েকজন আহত হয়। সকালেই সেখানে তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল ও ১৬টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে মুন্সীগঞ্জ ও বরিশালের বেশ কিছু কেন্দ্র থেকেও। এ ছাড়া আগের কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে বহু অভিযোগ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশের বেশির ভাগ কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সরকারের তৃণমূলের এই নির্বাচনে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন। এমনিতেই এই নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে থাকে। তদুপরি দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ায় এবার সংঘাত-সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে। নির্বাচন কমিশনের জন্যও দলীয় ভিত্তিতে ইউপি নির্বাচনের এটিই প্রথম অভিজ্ঞতা। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে ভোটারদের আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু গৃহীত ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ধাপগুলোর নির্বাচনে যথাযথ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকেও নতুন করে তাদের কর্মকাণ্ডের ছক সাজাতে হবে। সামগ্রিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে, নানাভাবে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে হবে।

ইউপি নির্বাচনে যারাই আইন ভঙ্গ করবে কিংবা অপরাধে লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে দলমত বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা যাতে দ্রুত বিচারের আওতায় আসে ও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সহিংসতা সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেলে অবিলম্বে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে। আমরা আশা করি, ইউপি নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোয় কোনো রকমের সহিংসতা হবে না।


মন্তব্য