kalerkantho


প্রথম ধাপের নির্বাচন আজ

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করুন

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রথম ধাপের নির্বাচন আজ

তৃণমূলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নির্বাচনী লড়াইয়ের ভোটগ্রহণ আজ। রবিবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন ৭২১টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা।

কাল ১১টি ও ২৭ মার্চ দুটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন ঘিরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লায় উৎসবের আমেজের মধ্যেও উঁকি দিচ্ছে সংঘাতের শঙ্কা। প্রথম ধাপের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর এ পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক ২০৮টি সহিংস ঘটনায় আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের খবর গণমাধ্যমে এসেছে। প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও নিতান্ত কম নয়। এসব ঘটনায় ৫৫টি সাধারণ ডায়েরি ও ১৪৩টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৫ জনকে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা আজ ভোটগ্রহণের দিনও সহিংসতা-সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। ২০০৩ সালের তুলনায় এবার সংঘাত-সংঘর্ষে প্রাণহানি অনেক কম হলেও দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় গোলযোগের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন পরিবেশ শান্ত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টার কথা জানালেও সাধারণ মানুষ তাতে আস্থা রাখতে পারছে না। নির্বাচন কমিশনের কথায় অভয় পাচ্ছে না সাধারণ ভোটাররা। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু জায়গায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্যকে সতর্ক করা হয়েছে। বদলি করা হয়েছে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুই থানার ওসিকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রবিবার থেকেই মাঠে নেমেছে। ওদিকে রবিবার রাতে বান্দরবানের এক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য ওই ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে পরবর্তী ধাপে।    

দলীয় প্রতীকে এবারই প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এবারের নির্বাচন নিয়ে উৎসাহের কমতি নেই। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই এবারের নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। আবার উভয় দলেই রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রভাবশালী স্থানীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী। বান্দরবানে নিহত সম্ভাব্য প্রার্থীও ছিলেন স্বতন্ত্র।

প্রথম ধাপের নির্বাচনী পরিবেশ দেখে নির্বাচন কমিশনকে পরবর্তী ধাপগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী ধাপেও নির্বাচনী সংঘাত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। তবে আজকের দিনটি নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আশা করব, আজকের ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পালন করবে অর্পিত দায়িত্ব। নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে।

আমরা আশা করব, রাজনৈতিক দলগুলো জনমতের প্রতি আস্থা রাখবে। জনগণের রায় মেনে নেবে। ভোটযুদ্ধে জয়-পরাজয় আছে। কিন্তু আমাদের দেশে পরাজয় মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি নেই। কাজেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে।


মন্তব্য