kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


জঙ্গি হামলার আশঙ্কা

গোয়েন্দা তত্পরতা বাড়াতে হবে

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সারা দুনিয়ায়ই এক ধরনের জঙ্গি উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। আর তার কেন্দ্রস্থলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য।

জিহাদের কথা বলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। তাতে মারা যাচ্ছে নিরীহ নিরপরাধ মানুষ। বাংলাদেশেও পশ্চাত্পদ চিন্তাভাবনার কিছু মানুষের ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে তারা একইভাবে জঙ্গি তত্পরতা ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের স্বীকারোক্তিতেও উঠে এসেছে এমনই তথ্য। বিদেশি কিছু শক্তির ইঙ্গিতে ও অর্থ-সহায়তায় তারা হাতিরঝিলসহ ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিল। প্রস্তুতিপর্বেই গ্রেপ্তার হওয়ায় ভয়াবহ পরিণতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বহু জীবন।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবির এই গ্রুপটির নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ আল মঞ্জু ওরফে জাহাঙ্গীর। তিনি প্রায় ১৩ বছর কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে জেএমবির জঙ্গি তত্পরতার সঙ্গে যুক্ত হন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি অর্থ সংগ্রহ করতেন এবং পাকিস্তানের জঙ্গি নেতারাও তাঁকে নানাভাবে সহযোগিতা করতেন। ঢাকাসহ সারা দেশে মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন গ্রুপে ৫০ জনের মতো সদস্য রয়েছে। পুলিশ এখন অন্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝিনাইদহের এক জামায়াত নেতাকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর কাছ থেকে ১৫টি হাতবোমা ও ৪০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগেও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের যে তাণ্ডব আমরা দেখেছি, তাকেও বিবেচনায় রাখতে হয়। ঢাকায় থাকা পাকিস্তানি দূতাবাসের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিশেষ তাত্পর্যবহ। সব মিলিয়ে ধারণা করা যায়, একাত্তরের পরাজিত শক্তি আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সহায়তায় বাংলাদেশে তাদের জিঘাংসা চরিতার্থ করতে চাইছে। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। পাশাপাশি সব ষড়যন্ত্রের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচিত করা প্রয়োজন, যাতে একাত্তরের মতোই এসব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া যায়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, জঙ্গি তত্পরতা মোকাবিলায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সক্ষমতায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। তাই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপাসনালয়ে হামলাসহ ব্যক্তিপর্যায়ে অনেকেই জঙ্গি হামলার শিকার হচ্ছেন। এমনকি পুলিশের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটছে। তাই জঙ্গিরা কোথায়, কিভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, মানুষকে বিভ্রান্ত করছে কিংবা হামলার পরিকল্পনা করছে—আগেভাগেই সেসব তথ্য জেনে তাদের সমূলে উচ্ছেদের চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য গোয়েন্দা তত্পরতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে জঙ্গি তত্পরতা মোকাবিলায় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।


মন্তব্য