kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সংঘাত-সংঘর্ষ বাড়ছে

ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে ব্যবস্থা নিন

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সংঘাত-সংঘর্ষ বাড়ছে

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। কাল ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচনী প্রচারের শেষ সময়ে এসেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংঘাত-সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ে এবার সংঘর্ষের ঘটনা কম হলেও প্রাণহানি এড়ানো যায়নি। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হওয়ায় বড় দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের কোন্দল সামনে চলে এসেছে। দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলেই রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। এ ছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের তত্পরতা তো থাকবেই।

বাংলাদেশে সব নির্বাচন যেমন উৎসবমুখর পরিবেশে হয়ে থাকে, তেমনি সব নির্বাচনেই থাকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ও সংঘাতপ্রবণ এলাকা। নির্বাচন কমিশনের কাছেও এসব কেন্দ্র ও এলাকার তালিকা থাকে। কমিশন পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রথম ধাপের নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। শুরুতে এসব স্থানে নির্বাচন কমিশনের তত্পরতা খুব একটা চোখে পড়েনি। ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের তত্পরতার ব্যাপারেও চোখ ঘুরিয়ে রেখেছিল নির্বাচন কমিশন। শেষের দিকে এসে কিছু ব্যবস্থা নিলেও তত দিনে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।

এখন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে ভাবতে হবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেছেন, নির্বাচনের দিন কোনো দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রার্থীরা গোলযোগ করলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে কেন্দ্রে গোলযোগ হবে সেটি বাতিল করা হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ কাউকে হয়রানি করবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। পুলিশপ্রধানের হুঁশিয়ারির পরও আশঙ্কা যায় না। দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অতীত ইতিহাস বলছে, এই নির্বাচন বরাবরই সংঘাতপ্রবণ। ২০০৩ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেবারের তুলনায় এবার প্রাণহানির ঘটনা কম হলেও সংঘাত-সংঘর্ষ থেমে নেই। এ থেকেই ধারণা করা যেতে পারে নির্বাচনের দিনও সংঘর্ষ হতে পারে। বিশেষ করে যখন দলের ভেতরেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, তখন সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কাজেই নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনের সময় স্থানীয় প্রশাসন কমিশনের অধীনে পরিচালিত হয়। সুতরাং প্রশাসনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী সংঘর্ষপ্রবণ কেন্দ্র ও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা বাড়াতে হবে। কেউ যাতে পেশিশক্তি বা অস্ত্রের ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। সাধারণত দেখা যায়, নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধী চক্র বেরিয়ে আসে। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়।

ভোটের দিনটি নির্বিঘ্ন করাই এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আশা করব, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন যথাশক্তি প্রয়োগ করবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর কমিশনের গ্রহণযোগ্যতাও অনেকাংশে নির্ভর করছে।


মন্তব্য