kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


একের পর এক গ্যাস দুর্ঘটনা

নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নগরবাসীর জীবন যে গ্যাস ছাড়া অচল হয়ে পড়ে, সেই গ্যাসই এখন তাদের জীবন হরণ করছে। রাজধানীর উত্তরায় গ্যাসের আগুনে মা-বাবা ও দুই সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় গত বৃহস্পতিবার পাইপলাইন বিস্ফোরিত হয়ে বনানীর একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করলেও তিনজন অগ্নিদগ্ধ এবং ২০ জন আহত হয়। বিস্ফোরণে ভবন এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করেছে। দুই দুর্ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ে কিংবা তার আগে ও পরে এ রকম অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, না হয় পঙ্গু হয়ে গেছে। কিন্তু কেন এমন দুর্ঘটনা? কারা দায়ী এসব দুর্ঘটনার জন্য? কিভাবে গ্যাস ব্যবহারকারীদের জীবনের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়? পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এ প্রশ্নগুলোর জবাব খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বর্তমান বিশ্বে এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না, যেখানে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার নেই। ইউরোপ ও আমেরিকার শীতপ্রধান অনেক দেশে মাথাপিছু যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তার তুলনায় বাংলাদেশে মাথাপিছু গ্যাসের ব্যবহার খুবই কম। অথচ সেসব দেশে এ ধরনের দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে। তাহলে বাংলাদেশে দুর্ঘটনা এত বেশি কেন? কারণ একটাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গ্যাস বিতরণকারী সংস্থার জবাবদিহি বা দায়িত্বশীলতার অভাব। কারখানায় বা আবাসিক ভবনে গ্যাস সরবরাহের জন্য যে ধরনের সংযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন, যেসব নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা রক্ষিত হয় না। নিরাপত্তার মান নিশ্চিত না করেই সংযোগ দিয়ে দেওয়া হয়। আর অনিরাপদ সংযোগ থেকে সহজেই দুর্ঘটনা ঘটে। বনানীর দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে জানা গেছে, অন্য একটি সংস্থা কাজ করার সময় গ্যাসের লাইন ফুটো করে দেয়। আবাসিক ভবনটির বাসিন্দারা বিষয়টি বারবার তিতাস কর্তৃপক্ষের নজরে আনলেও তারা সেখানে যায়নি, প্রয়োজনীয় মেরামত করেনি। দুর্ঘটনার পর চিরাচরিত রেওয়াজ অনুযায়ী এখন একে অপরকে দোষারোপ করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অতীতেও এমন বহু ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এই বিষয়গুলো তদারকি কিংবা দায়ীদের চিহ্নিত করার কোনো উদ্যোগই দেখা যায়নি। বনানীর ঘটনায়ও কি তাই হবে?

নগরজীবন গ্যাস ছাড়া অচল, তাই পাইপলাইনে হোক আর সিলিন্ডারে হোক, গ্যাস লাগবেই। এ ক্ষেত্রে গ্যাসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আরো সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে বনানীর ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।


মন্তব্য