kalerkantho


আফগানিস্তানে বাংলাদেশি অপহরণ

উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আফগানিস্তানে বাংলাদেশি অপহরণ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ২০০২ সাল থেকে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশি কর্মীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের কাজ করছেন।

তবে মাঝেমধ্যেই এই কর্মীরা সে দেশে দুর্বৃত্তদের নিশানা হচ্ছেন। একাধিক ঘটনায় ব্র্যাকের কর্মীরা সেখানে প্রাণও হারিয়েছেন। সর্বশেষ বাংলাদেশের দুজন কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার বন্দুকধারীরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সেই থেকে অপহৃতদের খোঁজ মিলছে না।

কোথাও, কোনো অজুহাতেই অপহরণ বা মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনা চলতে পারে না। আফগানিস্তানের অর্থনীতি এখন বড় নাজুক। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় লাখ লাখ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা দিচ্ছে ব্র্যাকের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। দুই বংলাদেশিকে কারা অপহরণ করেছে তা এখনো জানা না গেলেও কাজটি তালেবান, আল-কায়েদা অথবা এ-জাতীয় কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর বলেই মনে করা হচ্ছে। অপহরণকারীদের পরিচয় যাই হোক, এই অপরাধ থেকে স্পষ্ট, তারা আফগানিস্তানের ভালো চায় না।

আমরা আগেও দেখেছি, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে চায়। কেউ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হোক এটাও তারা বরদাশত করতে পারে না।

ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ বলছে, অপহরণের ঘটনার কথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তারা জানিয়েছে। কাবুলের ব্র্যাক অফিসও তত্পর রয়েছে এবং আফগান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে এ ধরনের ঘটনায় দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ করেছে। এবারও তাদের ত্বরিত তত্পরতা আমরা প্রত্যাশা করছি। দুই অপহৃতের বাড়ি পাবনায়। স্বজনরা দুই দিন ধরে যে আহাজারি করছে, তা বলাই বাহল্য। ব্র্যাক যেন পরিবার দুটির পাশে গিয়ে উদ্ধার তত্পরতা চালানোর কথা জানায় ও ভরসা দেয়।

আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা এখন বড় সমস্যা। এর পরও অনেকে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সাহসিকতা প্রশংসনীয়। তবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি সাবধানতাও অবলম্বন করতে হবে। কারণ আফগানিস্তানে সক্রিয় দেশি-বিদেশি জঙ্গিরা নানা স্বার্থেই অপহরণকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। মুক্তিপণ আদায় তাদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের তহবিল জোগাড়ের অন্যতম কৌশল। দাবি পূরণ না হলে হত্যা করতেও তাদের হাত কাঁপে না। তাই উদ্ধার তত্পরতায় কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বা উদাসীনতা যেন না থাকে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ব্র্যাক কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ পুনর্গঠনে ব্র্যাকের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে অনেকবার তাদের কর্মীরা সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকজন প্রাণও হারিয়েছেন। তাই বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা কিভাবে আরো বাড়ানো যায় তা ভাবতে হবে। বিভিন্ন দেশে কর্মরত তাদের কর্মীদের স্পর্শকাতর সময় বা স্থান নিয়ে নিয়মিত সতর্ক করা প্রয়োজন। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ ধরনের সক্রিয় ভূমিকা থাকা জরুরি।


মন্তব্য