kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করুন

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও জাতীয়করণ হয়নি এসব বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার শিক্ষকের চাকরি। চাকরি একদিন জাতীয়করণ হবে, সেই আশায় স্বল্পবেতনের চাকরি করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এসব শিক্ষক। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে গেছে সেই প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপের ২২ হাজার ৯৫৬টি বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের গেজেট প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ হয় একই বছর মে মাসে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় ধাপের দুই হাজার ২৫২টি ও ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে ৫৫৭টি স্কুল জাতীয়করণ হলেও এসব স্কুলের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকারি হয়নি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিললেও দ্বিতীয় ধাপের শিক্ষকদের পদ সৃষ্টির সারাংশ তৈরি করে সচিব কমিটির কাছে পাঠানো যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ‘জোর তদবির’ নেই বলেই তাঁদের চাকরি জাতীয়করণের কাজ আটকে আছে। সঠিক চরকায় প্রয়োজনীয় তেল ঢালতে পারলে সব জটিলতা দূর হয়ে যেত বলে অনেকের ধারণা।

বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বলে যে কথাটি চালু আছে, বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের ক্ষেত্রে তা আবার নতুন করে সবার সামনে চলে এসেছে। এখানে ফাইল চালু রাখতে যে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, তা অনেকেরই জানা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর প্রথম ধাপের শিক্ষকদের চাকরি সহজেই সরকারি হওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণে কেন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন। প্রথম ধাপের সংশ্লিষ্ট কাজ যদি দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন করা সম্ভব হয়ে থাকে, তাহলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কাজে ঢিলেমি দেখা যাবে কেন। মন্ত্রণালয় কি এ কাজে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে? ২০১৩ সালের নভেম্বর ও ২০১৫ সালের জুলাইয়ে স্কুল জাতীয়করণের পরও শিক্ষকদের চাকরি সরকারি হবে না কেন?

মন্ত্রণালয় থেকে এসব স্কুল নিয়ে নানা জটিলতার কথা বলা হতে পারে। কিন্তু জাতীয়করণের সময় কি এসব সমস্যা ও জটিলতা সামনে আসেনি। তখন যদি কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে দীর্ঘদিন শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা কেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর শিক্ষকদের মনে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা এখন দুরাশা হতে যাচ্ছে। কারণ আগে তবু বেসরকারি স্কুল থেকে সামান্য বেতন পাওয়া যেত। এখন স্কুল জাতীয়করণের পর বেতনও বন্ধ রয়েছে। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেবে। সব জটিলতা দূর হলে এসব স্কুলের শিক্ষকদের চাকরি সরকারি হবে।


মন্তব্য