kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিএনপির কাউন্সিল আজ

জনপ্রত্যাশা পূরণ হোক

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপির কাউন্সিল আজ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসন উত্খাতের পর থেকে গণতন্ত্রের যে অব্যাহত যাত্রা চলে আসছে, তাতে দল দুটি পালাক্রমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আসছে। স্বাভাবিকভাবেই দল দুটির যেকোনো কর্মসূচি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে। আর দুই দলেরই কাউন্সিল অধিবেশন চলতি মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশব্যাপী রাজনীতি সচেতন প্রতিটি মানুষ সেদিকে তাকিয়ে আছে। এর মধ্যে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। আর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৯ মার্চ। দুটি জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে মানুষের নানা রকম প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।

জাতীয় কাউন্সিল যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানেই দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, দলের আদর্শ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিএনপির এবারের কাউন্সিল আরো অনেক কারণেই শুধু দল নয়, দলের বাইরেও ব্যাপক মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে ক্ষমতার রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। সংসদে যেমন তাদের অবস্থান নেই, তেমনি রাজপথের আন্দোলনেও তারা খুব একটা ফলপ্রসূ নয়। কাউন্সিলে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারিত হবে। কয়েক বছর ধরে দেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন অপরাধীর শাস্তি হয়েছে। সেই বিচারপ্রক্রিয়া নস্যাৎ করার জন্য জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিগত দিনে বিএনপির যে ভূমিকা ছিল তা নিয়েও জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। দলীয় অনেক নেতাকর্মীও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত রকমের সংশয়ে রয়েছেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এবারের কাউন্সিলে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রশ্নে আর কোনো ধোঁয়াশা নয়, বিএনপি তার স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরবে। গত কয়েক বছরে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রচর্চার অভাব নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক ক্ষোভ জমেছে। তাই এবারের কাউন্সিলে তাঁরা নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত স্বচ্ছ দেখতে চান। বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যায় যে নেতৃত্ব নির্বাচনে নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেন না। এখনো কমিটি নির্ধারিত হয় ব্যক্তিবিশেষের ইচ্ছা-অনিচ্ছায়, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির ঐতিহ্যের সঙ্গে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়। আর সে কারণেই দলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত বৃদ্ধি পায়, দলের ত্যাগী ও আদর্শিক নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন এবং দলে অসৎ ও লুটপাটকারীদের প্রভাব বাড়ে, যা প্রকারান্তরে দলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিএনপির আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনে যেন তেমনটা না হয়—সেটাই প্রত্যাশা দলের শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

সরকার দেরিতে হলেও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছে। ভবিষ্যতেও বিএনপির যেকোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশিত। আমরা চাই, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি আবার সুস্থ ধারায় ফিরে আসুক। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশের মধ্য দিয়ে দেশ স্থায়ীভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলুক।


মন্তব্য