kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিমানবন্দর প্রকল্প ও নিরাপত্তা

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিমানবন্দর প্রকল্প ও নিরাপত্তা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ না দিলে জাপান ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন না করার কথা বলেছে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে জানা যায়, বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, জাপানকে কাজের প্রস্তাব দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সমস্যার মূলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। জাপান এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার কথা ২০১৪ সালেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল। বিভাগ প্রস্তাবটাই তালিকাভুক্ত করেনি।

জাপানের কাজ না পাওয়ার পেছনে আছে আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক, কর্মকর্তাদের এমন অভিযোগকে অবশ্যই গুরুতর বলতে হবে। কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো কোনো দেশের কম্পানি প্রায় সব কাজেই টাকা ঢালে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খুশি করে কাজ হাতিয়ে নেয়। জাপান এই বাঁকা পথে হাঁটে না বলেই আমাদের ওই ধরনের কর্মকর্তারা প্রায়ই দেশটির প্রস্তাব ফেলে দেন বা আমলে নেন না। এ ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে বিমান মন্ত্রণালয়ের কোনো কোনো কর্মকর্তা মনে করছেন। তাঁদের এ সন্দেহ আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ প্রকল্প নিয়ে লুটপাটের সংস্কৃতি দেশে নতুন নয়। ব্যাপকভাবেই এ ধরনের অনিয়ম চলছে। বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটা ঘটনা হয়তো ধরা পড়ে।

দুই রাষ্ট্রীয় সংস্থার রেষারেষিতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর ছুটে এসেছেন তিন ব্রিটিশ বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা। এর মধ্য থেকে একটি কম্পানির নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টিও প্রায় চূড়ান্ত। অস্ট্রেলিয়ার পর ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ দিক থেকে দেখলে সমস্যার দ্রুত সমাধানই কাম্য। তবে এ কাজটি কি আমরা করতে পারতাম না?

প্লেট, স্ক্যানার কেনা ও পরিচালনাসহ কার্গো কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। কিন্তু সমঝোতায় পৌঁছানো কি কঠিন কোনো কাজ? অভিযোগ রয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনেক সিদ্ধান্ত সংস্থা দুটি, বিশেষত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরোয়া করে না। অভিযোগের সত্যাসত্য জেনে ত্বরিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে নিরাপত্তাব্যবস্থা এমন পরনির্ভর হয়ে পড়ত না। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া হয়ে আছে। এ থেকে সংস্থাকে বের করতে না পারলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে।

জাতীয় স্বার্থ সবার আগে। নিজেদের কাজ নিজে করলে কর্মসংস্থান বাড়ে, ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয়। আমরা আশা করব, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে আদৌ কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। কার্গোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিজেদের কাঁধে নেওয়ার লক্ষ্যেও জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।


মন্তব্য