kalerkantho


অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার

বিপর্যয় রোধে জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশের জনস্বাস্থ্যে ক্রমেই এক বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। নকল ওষুধ, ভেজাল ওষুধ তো আছেই।

তার চেয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়ে আসছে ওষুধের, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের অপব্যবহারজনিত বিপদ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। অর্থাৎ এরা রোগজীবাণুতে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েও কোনো কাজ হবে না। তাহলে তাদের রোগ সারবে কিভাবে? সেই সঙ্গে আছে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলে মানুষের জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের অপরিমিত ব্যবহার। এসব প্রাণীর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরেও চলে আসছে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব। রোগজীবাণু গড়ে তুলছে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধ ক্ষমতা। ফলে এসব রোগজীবাণুতে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েও কোনো কাজ হবে না। শুধু তা-ই নয়, মানবশরীরে অপরিমিত অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশের ফলে মানুষের কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিংবা কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। ফলে মানুষ বেশি করে রোগাক্রান্ত হচ্ছে, আর শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। অ্যান্টিবায়োটিকের এই যথেচ্ছ ব্যবহার বা অপব্যবহার ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্যে ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারকদের এ ব্যাপারে যথেষ্ট দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না। সে কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক এখন চার  শর বেশি নাম দিয়ে বাজারে ছেড়েছে বিভিন্ন ওষুধ কম্পানি। পাড়া-মহল্লার দোকানেও দেখা যাবে অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশী ওষুধের ব্যাপক ছড়াছড়ি। এসব ওষুধ কিনতে চিকিৎসকের কোনো ব্যবস্থাপত্রেরও প্রয়োজন হয় না। কারো সর্দিকাশি বা সামান্য শারীরিক সমস্যা হলেই কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল কিনে খেয়ে নেয়। কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের নির্দিষ্ট কোর্স সম্পন্ন না করলে জীবাণু ধ্বংস না হয়ে উল্টো সেই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। তখন পুরো কোর্স ওষুধ খেলেও সেই জীবাণু ধ্বংস হয় না। আবার অনেক চিকিৎসকও যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের পরামর্শ দেন না। রোগী গেলেই এক কোর্স অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দেন। এতে কাজ না হলে তখন এটি বদলে অন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেন। অথচ উন্নত সব দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কেউ সে নীতিমালা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ পর্যায়ে যাওয়ার আগেই অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংগঠনগুলো মিলে এ ব্যাপারে জাতীয় করণীয় নির্ধারণ করবে এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।


মন্তব্য