kalerkantho


সোনাইমুড়ীতে সহিংসতা

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নিষিদ্ধঘোষিত ও বিতর্কিত কিছু জঙ্গি সংগঠন বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে আছে। অতীতে জঙ্গিরা একযোগে সারা দেশে হামলা চালানোর স্পর্ধাই শুধু দেখায়নি, তারা নৃশংসভাবে অনেক হত্যাকাণ্ডও ঘটিয়েছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা থাকলেও তাদের পুরো দমন করা যাচ্ছে না। ইসলামের নাম করে স্বার্থান্বেষী ও ক্ষমতালোভী বিভিন্ন মহল জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলে। ধর্মীয় কিছু সংগঠন আছে, সরাসরি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ না থাকলেও যাদের আচরণ সন্দেহজনক। এমনই একটি সংগঠন হিজবুত তাওহীদ। অতীতে বিভিন্ন মহল থেকে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত রবিবার নোয়াখালীতে জনতা এই সংগঠনটির দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

আমাদের সংবিধানে ধর্ম-মত-নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তাদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি, তুচ্ছ অজুহাতে বা ধর্মীয় জিগির তুলে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়া হয়। এরপর শুধু বাড়িঘরই জ্বালিয়ে দেওয়া হয় না, চলে হত্যাকাণ্ড। সোনাইমুড়ীতে ইসলাম ধর্মের একটি বিশেষ ধারায় বিশ্বাসীদের ওপর হামলা হয়েছে। অনুরূপ হামলা আমরা নিকট ও দূর অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হতে দেখেছি। সমাজে এ ধরনের সহিংসতা কোনো অজুহাতেই কাম্য হতে পারে না।

হিজবুত তাওহীদ ধর্মীয় কর্মতত্পরতার আড়ালে জঙ্গি তত্পরতা চালায় কি না কিংবা জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যরা সেখানে আত্মগোপন করে আছে কি না তা আমাদের অজানা। তাই তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। তারা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বা অন্যের বিশ্বাসে আঘাত হানার চেষ্টা করে কি না তার অনুসন্ধানও হওয়া দরকার।

সোনাইমুড়ীর পোড়করা গ্রামের এই সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতাও লক্ষণীয়। বিতর্কিত সংগঠনটির বিরুদ্ধে একটি মহল যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সকালে স্মারকলিপি দেয়, তখনই প্রশাসন সতর্ক হলে প্রাণহানি এড়ানো যেত। এ ছাড়া দেশে আইন আছে, বিচারব্যবস্থা আছে। কোনো অজুহাতেই কি কেউ এভাবে জ্বালাও-পোড়াও ও হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে? অভিযোগ থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়। ধরে পুলিশে সোপর্দ করা যায়।

দেশের আরো অনেক স্থানেই বিতর্কিত এই সংগঠনটি সক্রিয় রয়েছে। জঙ্গিবাদ উসকে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত কি না জরুরি ভিত্তিতে তা তলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করতে হবে। আবার আমাদের এও মনে রাখা উচিত, কোনো অজুহাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না।


মন্তব্য