kalerkantho

পাঠ্য বই মুদ্রণ

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশের শিল্প বাঁচান

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। বছরের প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, শুরু হচ্ছে নতুন বছরের শিক্ষাপঞ্জি। প্রাথমিক থেকে নিম্ন মাধ্যমিক হয়ে মাধ্যমিক পর্যন্ত ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। বেড়েছে পাসের হার। অন্য সব কিছুর পাশাপাশি সময় মতো পাঠ্য বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারায় এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। এখন প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপা বইয়ের সংখ্যা। গত বছর ৩৩ কোটি পাঠ্য বই ছাপা হয়েছিল। এবার ছাপতে হবে ৩৪ কোটি। এক বছরে মুদ্রণসংখ্যা বেড়েছে এক কোটি। এই ৩৪ কোটি বই ছাপা, বাঁধাইসহ এক বিশাল কর্মযজ্ঞের পর তা যাবে শিক্ষার্থীদের হাতে। এই কর্মযজ্ঞের কোথাও সামান্য ত্রুটি হলে তার প্রভাব পড়বে সর্বত্র। শিক্ষার্থীদের হাতে সময় মতো বই পৌঁছে দেওয়া যাবে না। ব্যাহত হবে শিক্ষাপঞ্জি। সরকারের লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্য বই মুদ্রণের কাজ করতে গিয়ে দেশের মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও সক্ষমতা অর্জন করেছে। অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়েছে। আধুনিক মানের অনেক ছাপাখানা এখন বাংলাদেশে রয়েছে। বড় কাজ তুলে দেওয়ার ক্ষমতা এসব ছাপাখানার রয়েছে। মুদ্রণশিল্প জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কাজের ওপর এখন অনেকটাই নির্ভর করে থাকে। কিন্তু এবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বই ছাপার আগেই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুশাসনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে দেশের মুদ্রণশিল্প। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বরাত দিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবি বলেছে, একটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লটের বেশি কাজ দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যারা কাজ করতে পারবে, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী তাদের কাজ দিতে কোনো বাধা নেই। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতিবছর ৭৭৫ লটের কাজ করে। কিন্তু দেশের প্রতিষ্ঠানকে মাত্র দুই লটের কাজ দিলে যে কাজ বাকি থাকবে, তা চলে যাবে দেশের বাইরে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের মুদ্রণশিল্প। দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সক্ষমতার ভিত্তিতে অধিকসংখ্যক লটের কাজ তুলে দিতে পারে, তাহলে কাজ দিতে আপত্তি থাকবে কেন? দেশের প্রতিষ্ঠান যদি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নিয়মিত বড় কাজ তুলে দেয় বা নির্দিষ্ট সময়ে কোটি কোটি বই ছেপে দেওয়ার রেকর্ড থাকে, তাহলে তাদের কাজ থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন?

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নির্দিষ্ট সময়ে বই ছেপে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে দেশের সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। সেভাবেই তৈরি হোক দরপত্রের চুক্তি। বই ছাপার অনিশ্চয়তা দূর করে দেশের শিল্প রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটাই প্রত্যাশা আমাদের।


মন্তব্য