kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


অটোরিকশাচালকদের ধর্মঘট

যাত্রীদের জিম্মি করবেন না

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অটোরিকশাচালকরা রবিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করেছেন। এই ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলেনি।

দু-একজন চালক অটোরিকশা বের করার চেষ্টা করলেও বাধার মুখে গ্যারেজে ফিরে যেতে বাধ্য হন। অটোরিকশাচালকরা যে দাবিতে ধর্মঘটে গেছেন, তা কতটা যৌক্তিক? ঢাকার অটোরিকশাচালকদের জন্য মিটারে ভাড়া নির্দিষ্ট করা আছে। সর্বশেষ গত নভেম্বরে এই ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে বাড়ানো হয়েছে। এর পরও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন এমন অভিযোগ আছে। এমনকি বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছিল। অটোরিকশাচালকদের দাবির মধ্যে রয়েছে—চালকদের জেল-জরিমানা বন্ধ করা, কারাবন্দি সব অটোরিকশাচালকের মুক্তি, সরকার নির্ধারিত ৯০০ টাকা জমার ক্ষেত্রে শ্রমিক-স্বার্থ পুনর্বিবেচনা, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করে ‘নো পার্কিং’ মামলা না করা, যেসব অটোরিকশার ইকোনমিক লাইফের সীমা বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর জমা ৬০০ টাকা নির্ধারণ, শ্রম আইন অনুসারে চালকদের জন্য নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা ও নতুন পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মধ্যে বিতরণ।

রাজধানীতে যারা অটোরিকশায় চলাচল করে, তারা ভোগান্তি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। ঢাকায় মিটারে যেতে আগ্রহী চালকের সংখ্যা সামান্যই। মিটারে গেলেও বাড়তি ভাড়া চাওয়া অটোরিকশাচালকদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যা দিতে না চাইলে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ আছে। অপরাধী চক্রের সঙ্গে কিছুসংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও পাওয়া যায়। তাঁদের দাবিগুলো যদি যৌক্তিক হয়, তা নিয়ে আলোচনায় বসা যেতে পারে। কিন্তু অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া ঠিক হবে না। জেল-জরিমানা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন অটোরিকশাচালকরা। কিন্তু একজন চালক যখন অপরাধ করেন, তাঁর প্রতিবিধান কী? ঢাকার রাস্তায় চলাচল করে এমন অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাব যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো গন্তব্যে যেতে বাধ্য। কিন্তু ঢাকার অটোরিকশাচালকরা কি এই আইনটি মেনে চলেন? কারাবন্দি সব অটোরিকশাচালককে মুক্তি দিলে দেশে কি আইনের শাসন থাকে? সিএনজি অটোরিকশাচালকরা নিশ্চয়ই দেশের প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে নন। শুধু তা-ই নয়, মিটারে যেতেও আপত্তি তাঁদের। ঢাকা শহরের সর্বত্র পার্কিংয়ের জায়গার ব্যবস্থা করা যাবে না। পার্কিংয়ের জায়গা থাকার পরও তো চালকরা যত্রতত্র অটোরিকশা পার্কিং করে থাকেন। জমার ক্ষেত্রে তাঁরা অটোরিকশার মালিকদের সঙ্গে বসে সমাধানে আসতে পারেন।

মনে রাখতে হবে, দেশে আইন আছে। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। হরতাল-ধর্মঘট করা যেতে পারে। তবে কাউকে জিম্মি করা যাবে না। সিএনজি অটোরিকশাচালকরা যাত্রীদের জিম্মি করতে পারবেন না। সে অধিকার তাঁদের দেওয়া হয়নি। আইনের মধ্যে থেকে ন্যায়সংগত দাবি আদায়ে কারো বাধা নেই।


মন্তব্য