kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ!

বিকল্প বাজার সৃষ্টিতে জোর দিন

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ!

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় ও শিক্ষিত-অশিক্ষিত উভয়বিধ বেকারের সংখ্যা বেশি থাকায় বাংলাদেশ সব সময়ই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে থাকে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য একটি শ্রমবাজার। স্বাভাবিকভাবে সরকার চেষ্টা করে আসছিল সেই শ্রমবাজারটি আরো সম্প্রসারিত করতে। প্রাথমিক সাফল্যও এসেছিল। বাংলাদেশ থেকে আরো ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তার এক দিন পরই মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে মালয়েশিয়ায় আপাতত কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হবে না। স্বাভাবিকভাবেই সদ্য সম্পাদিত চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়। নানা মহল থেকে, এমনকি মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও তখন বলা হচ্ছিল, উপপ্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা সদ্য সম্পাদিত চুক্তিকে প্রভাবিত করবে না। অর্থাৎ চুক্তিতে বর্ণিত ১৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে। কিন্তু মালয়েশীয় গণমাধ্যমে গত শনিবার প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, দেশটির মন্ত্রিসভাও বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপপ্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদিকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির বাস্তবায়নও স্থগিত থাকবে। অবশ্য মালয়েশীয় সরকার এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে কিছু জানায়নি।

প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায়ই বেকারত্বের হার বেড়েছে। ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকারকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পাঁচ বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক রাবারের অব্যাহত দরপতন মালয়েশীয় অর্থনীতির বড় খাত রাবার চাষকে হুমকির মুখে নিয়ে গেছে। দেশটির অর্থনীতিতেও নানা অসংগতি তৈরি হয়েছে। জানা যায়, এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন সরকারের ভেতরেও এক ধরনের টানাপড়েন চলছে। সম্ভবত এসব কারণেই মালয়েশিয়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। যা হোক, সেগুলো একান্তভাবেই তাদের নিজস্ব বিষয়। আমরা মনে করি, দুই দেশের সরকারের মধ্যে যখন কোনো চুক্তি হয় তখন দুটি দেশেরই উচিত সেই চুক্তির প্রতি যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করা, চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলা। আমরা আশা করি, মালয়েশিয়া সরকার চুক্তির ব্যাপারে তাদের অবস্থান খুব দ্রুত বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করবে এবং সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করা হলে তার যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দেবে। আর তা না করা হলে কী প্রক্রিয়ায় কত দিনে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে, সে ব্যাপারে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী বিদেশে কাজ করতে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই তুলনায় মালয়েশিয়ায় খুব কম কর্মীই গেছে। তদুপরি সেখানকার কষ্টকর প্লান্টেশন খাতে কাজ করতে বাংলাদেশি কর্মীরাও যথেষ্ট আগ্রহী নয়, বিগত সময়ে তেমনটা দেখাও গেছে। তার ওপর এখন মালয়েশিয়ায় নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাই আমাদের বিকল্প শ্রমবাজার সৃষ্টির প্রতি আরো জোরদার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গেও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।


মন্তব্য