kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

নিষ্ঠুর! পৈশাচিক!

মাদক সমাজকে কোথায় নিয়ে যাবে

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কোনো সভ্য সমাজে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা কল্পনারও অতীত। হ্যাঁ, তার পরও ঘটেছে।

ঘটনাস্থল কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর শহর। বৃদ্ধ পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এমদাদুল কবির মানিককে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে তাঁরই ‘শিক্ষিত’ ছেলে আনোয়ারুল কবির জন। গোপনে নয়, ঘরের গ্রিলের দরজায় ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দিনের আলোয় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শত শত লোক তা দেখেছে। কেউ কেউ ভিডিও করেছে। সে ভিডিও এখন এলাকার মানুষের হাতে হাতে। ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন পুলিশও ছিল, তারাও পারেনি ঘাতক পুত্রের হাত থেকে পিতাকে রক্ষা করতে। জানা যায়, পেছনের দরজা ভেঙে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন ঘরের ভেতরে গিয়েছিলেন; কিন্তু পিতাকে বাঁচাতে পারেননি। উল্টো রডের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে ফিরে এসে দূরে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখেছেন। উপস্থিত কয়েক ব্যক্তি পুলিশকে অনুরোধ করেছিলেন গুলি চালানোর জন্য। কিন্তু পুত্রস্নেহে অন্ধ পিতা মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তেও করজোড়ে মানা করেছেন গুলি চালাতে। হায় রে পুত্রস্নেহ! অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। পরে অবশ্য তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা মানিক একটি ইটভাটার মালিক ছিলেন। সহায়-সম্পদও ছিল প্রচুর। ছেলেকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় আনন্দ মোহন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সনদপত্রও জুটেছিল ছেলের। কিন্তু না, তিনি ছেলেকে মানুষ করতে পারেননি। ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলেন। তিন কন্যাসন্তানেরও জনক হয়েছে সে। কিন্তু মাদক ইতিমধ্যেই তার মনুষ্যত্ব শুধু নয়, হিতাহিত জ্ঞানও কেড়ে নিয়েছিল। খবরে বলা হয়েছে, আগের রাতে মাতাল অবস্থায় সে আশপাশের কয়েকটি সংখ্যালঘু বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছিল। হাতে দা নিয়ে অনেককে তাড়া করেছে। সকালে স্থানীয় লোকজনের তাড়া খেয়ে বাড়িতে এসেই পিতার ওপর চড়াও হয়েছে। ক্রমাগত রডের আঘাতে রক্ত ঝরতে ঝরতে অবশেষে নিভে গেছে এক অসীম সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবন প্রদীপ।

একটি বা দুটি নয়, প্রায় প্রতিদিনই আমাদের এমন পৈশাচিক ঘটনার খবর শুনতে হচ্ছে। ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে শুভবোধ, হূদয় রক্তাক্ত হচ্ছে। অথচ ঐশী, জনেরা সংখ্যায় বেড়েই চলেছে। কেন এমন হচ্ছে? এর সমাজতাত্ত্বিক, মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? প্রতিকারের কি কোনো উপায় নেই? পুলিশের দায়িত্ব কী? অভিযোগ আছে, বর্তমান ঘটনার মতোই অতীতে লেখক অভিজিত্সহ আরো অনেক হত্যাকাণ্ডই তারা দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছে। এত অক্ষম পুলিশের হাতে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কি? সমাজের সভ্যতাবিরোধী এই উল্টো যাত্রা রোধের বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারে আসবে কি? এই সমাজের বাসিন্দা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কি আমরা পালন করছি? বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিকের করুণ মৃত্যু এ রকম অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যার উত্তর পাওয়া খুবই জরুরি।


মন্তব্য