kalerkantho


খাদ্য অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



খাদ্য অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়, তবে অনিয়মের খুব কম ঘটনাই ধরা পড়ে। শাস্তির নজির তো আরো কম। ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ দূরের কথা, নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বরং আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তাঁরা সরকারি চাকরির বিধিবিধান, ব্যক্তিগত নীতিনৈতিকতা, দেশের স্বার্থ—সব জলাঞ্জলি দিয়ে অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন। ফলে শিক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থীরা যেমন ন্যায্য সুযোগ লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাঁদের মানসম্মত সেবা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সমাজ, জাতি বা রাষ্ট্র। খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগে দুর্নীতির যে চিত্র গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠ’র এক প্রতিবেদনে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে যাঁদের দুর্নীতি দমন কমিশন চিহ্নিত করেছে, তাঁদের মধ্যে বর্তমানে যুগ্ম সচিব, উপসচিব পদে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাও আছেন। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষায় ৪৪ জন প্রার্থীর ফলাফলশিটে বড় রকমের জালিয়াতি করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে যেসব প্রার্থী ৮, ১৯, ২৫ বা ২৬ পেয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে জাতি কোন্্ মানের সেবা লাভ করতে পারত? এ প্রশ্নের কী উত্তর দেবেন তত্কালীন খাদ্য অধিদপ্তরের অভিযুক্ত পরিচালক ও উপপরিচালক বা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপসচিব মহোদয়?

দেশের অগ্রগতির সঙ্গে সুশাসনের রয়েছে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক। দুর্নীতির ধারণাসূচকে প্রতিবছর বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় স্থান পাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের এমন কোনো দপ্তর নেই, যেখানে দুর্নীতি চলে না।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অদক্ষতা ও অযোগ্যতাও  বড় সমস্যা। তাই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থেই তো আমাদের দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা উচিত। দেশে শিক্ষিত ও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর অভাব নেই। তাঁদের মধ্য থেকে সেরা মুখগুলো বাছাই করে দায়িত্ব দেওয়া হলে তার ফল যে সুদূরপ্রসারী হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে অক্ষম ও দুর্বল কারো ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে বড় কোনো অর্জনও সম্ভব নয়। খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগে দুর্নীতি হওয়ার অভিযোগপত্রটি দুর্নীতি দমন কমিশন অনুমোদন করেছে। বিচারের পথের পরবর্তী ধাপগুলো যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

অপরাধ দমনে শাস্তির কোনো বিকল্প নেই। প্রশ্রয় দেওয়া হলে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমরা অনেক সময়ই দেখি, বড় মাপের দুর্নীতি করেও সরকারি চাকরিজীবীরা পার পেয়ে যান। শাস্তি বলতে বড়জোর ওএসডি হওয়া। দণ্ডের বদলে পুরস্কৃত হওয়ার নজিরও কম নেই। প্রশ্রয়ের এই সংস্কৃতি থেকে আমরা যত দ্রুত বের হতে পারব ততই মঙ্গল।


মন্তব্য