kalerkantho


কল্যাণপুরবাসী অতিষ্ঠ

আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে পদক্ষেপ নিন

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানী ঢাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বস্তি। নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের ছাড়া নগরজীবন অচল, বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেয় এসব বস্তিতে।

স্বাভাবিকভাবেই মানুষের এক ধরনের সহানুভূতি থাকে বস্তিবাসীর প্রতি। তাই যখনই বস্তি উচ্ছেদের অভিযান চলে, তখনই নানা মহল থেকে তার প্রতিবাদ করা হয়। কিন্তু কখনো কখনো কোনো কোনো বস্তি স্থানীয় অধিবাসীদের জীবন এতটাই অতিষ্ঠ করে তোলে যে তাঁরা তখন বাধ্য হয়ে বস্তি উচ্ছেদের দাবি জানাতে থাকেন। আন্দোলনেও নামেন। বর্তমানে কল্যাণপুরের পোড়া বস্তি নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের অবস্থা একই রকম। এখানে হেন অপরাধ নেই, যা ঘটছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি বহু সন্ত্রাসীও আশ্রয় নিয়েছে এই বস্তিতে। ক্রিয়াশীল রয়েছে অনেক গোষ্ঠীও। এখানে প্রকাশ্যেই চলে মাদক বেচাকেনা। এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেরা ক্রমেই বেশি করে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই হয়ে উঠেছে নৈমিত্তিক ঘটনা। এমনকি অপহরণ, খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। গত ছয় বছরে বস্তিকেন্দ্রিক মারামারির কারণে মিরপুর মডেল থানায় কেবল অস্ত্র আইনেই মামলা হয়েছে ৩০টির মতো। অন্যান্য মামলার তো কথাই নেই। এই বস্তির কারণে এখন আশপাশের মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

কল্যাণপুর পোড়া বস্তিটি গড়ে উঠেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রায় ১৫ একর খালি জায়গায়। এখানে এক হাজারের বেশি ছাপরা ঘরে আট হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করে। আর এসব ঘরের মালিক অল্প কিছু প্রভাবশালী লোক। তারা নিয়মিত ভাড়া তোলে। প্রতিটি ঘরের ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা। কারো কারো ১০০টির বেশি ঘর রয়েছে। ফলে এখান থেকে তাদের মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় হয়। শুধু থাকার ঘরই নয়, এই বস্তির ভেতরে রয়েছে কয়েক শ দোকান, গোডাউন, গ্যারেজ, কারখানা ইত্যাদি। আর এই সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে তারা প্রত্যেকে গড়ে তুলেছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী, যারা প্রায়ই এলাকায় কুরুক্ষেত্র সৃষ্টি করে। কখনো লোভে, কখনো বাধ্য হয়ে বস্তিবাসীরাও জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কাজে। সেই প্রক্রিয়ায় বস্তির নারী বা শিশুদেরও দেখা যায় মাদক বেচাকেনায় জড়িয়ে যেতে। বস্তির বাইরেও তারা মাদক ফেরি করে বেড়ায়।

নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে এবং থাকবে। আমরা চাই, সরকার তাদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করুক। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের কিছু আবাসন প্রকল্পও রয়েছে, সেগুলোর কাজের গতি দ্রুততর হোক। তা না হওয়া পর্যন্ত যেসব বস্তি রয়ে যাবে, সেগুলো যেন অপরাধের আখড়া না হয়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, বৃহত্তর কল্যাণপুরের নাগরিকদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


মন্তব্য