kalerkantho


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিন

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের মোট ৮১ মিলিয়ন ডলার হ্যাকড বা চুরির ঘটনাটি উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য এটাই প্রথম। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনে মামলা করা হবে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনা তদন্তে এফবিআইয়ের সহযোগিতাও চাইবে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুরি যাওয়া টাকার কিছু অংশ উদ্ধারের দাবিও করেছে তারা। কিছুটা সময় লাগলেও হয়তো বাকি টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তবে এখানে নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় করে দেখা দিয়েছে। সুইফট কোড নকল করে যখন টাকা হাতিয়ে নিতে পেরেছে, তখন এই চক্রের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যবান তথ্যাদিও চলে যেতে পারে? আর তা ঘটলে নতুন বিপদ ডেকে আনবে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অঘটন ঠেকাতে সব অনলাইন নেটওয়ার্ক সিস্টেমে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আন্তব্যাংক আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক বেলজিয়ামভিত্তিক সংস্থা সুইফট বলছে, প্রেরণ ও গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে বার্তা বিনিময় হয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য ছিল।

অন্যদিকে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুইফটে প্রবেশের জন্য ব্যবহারকারীর নাম, পাসওয়ার্ডসহ প্রেরকের যে কোড বা সংকেতলিপি প্রয়োজন হয়, তা নকল করা সম্ভব। ওই সংকেতলিপি সঠিকভাবে সুরক্ষিত না হলে প্রতারণার মাধ্যমে তা ব্যবহার করাও সম্ভব।

সব ব্যাংক হিসাবের বিপক্ষে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের লেনদেন নিয়মিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে এ ধরনের ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে তা আরো বেশি হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ হিসাবেও দেখা যায় যেকোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হলে তা ক্লায়েন্টের দৃষ্টিতে আনা হয়। সাধারণ ব্যাংকিংয়ে অস্বাভাবিক লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দেশের অভ্যন্তরে যেকোনো অস্বাভাবিক লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গোচরে না আনলে ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক কি তেমন কিছু করেছে? যখনই অস্বাভাবিক লেনদেন তাদের গোচরে এসেছে, তখনই এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। অবশ্য এর মধ্যেই ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ ছয় হ্যাকার শনাক্ত করেছে। পাঁচজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নেমেছে ফিলিপাইনে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল।     

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি যাওয়ার ঘটনা সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে ক্যাসপারস্কি ল্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে সাইবার হামলার শিকার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম। কাজেই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। কিভাবে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করাও জরুরি। সর্বোপরি চুরি হওয়া টাকা উদ্ধারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।


মন্তব্য