লঙ্ঘিত হচ্ছে আচরণবিধি-334602 | সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


লঙ্ঘিত হচ্ছে আচরণবিধি

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছে

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচন এগিয়ে আসছে। বাংলাদেশে সব নির্বাচনেই উৎসবের আমেজ পাওয়া যায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও তার বাইরে নয়। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে নানা আশঙ্কাও কাজ করে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের স্নায়ুর পরীক্ষা দিতে হয়। প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তি ও প্রতীকে হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রার্থী বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা দরকার। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধিতে কিছু বিষয় স্পষ্ট করেই বলা আছে। আচরণবিধির ৩০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অর্থ, অস্ত্র ও পেশিশক্তি কিংবা স্থানীয় ক্ষমতা দ্বারা নির্বাচন প্রভাবিত করা যাইবে না।’ আচরণবিধির ২৮ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, ‘কোনো প্রার্থী কর্তৃক রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল করিবার সময় অন্য কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা কোনো রাজনৈতিক দলের কেহ কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিতে পারিবে না।’ কিন্তু প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, এমন সচিত্র প্রতিবদেন আমরা সংবাদপত্রে দেখেছি। এসব ঘটনার কী প্রতিবিধান হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। আচরণবিধির ১৮ ধারায় উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণসংক্রান্ত বাধানিষেধের কথা বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিনই আসছে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোলযোগের খবর। নির্বাচনী প্রচারকাজে যানবাহন ব্যবহারসংক্রান্ত বাধানিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ১৩ ধারায়। বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনী প্রচারকার্যে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাইবে না...।’ কিন্তু সংবাদপত্রে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। ভোলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ক্যাম্প ভাঙচুর হয়েছে। পিরোজপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় খুন হয়েছেন এক ছাত্রনেতা। সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষে ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থকরা বিপক্ষের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে। পটুয়াখালী, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এখনই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলো আরো সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে, এমন আশঙ্কা অমূলক নয়।

আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্তব্য