kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুক্তরাজ্যের কার্গো নিষেধাজ্ঞা

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করুন

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাজ্যের কার্গো নিষেধাজ্ঞা

দুই রাষ্ট্রীয় সংস্থার রেষারেষিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর দিনে গড়ে অর্ধশত কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

রপ্তানি বাণিজ্যে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব হবে বহুগুণ বেশি। আকাশপথে যাওয়া পণ্যের ৩৫ শতাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নে যায় এবং এর ৯০ শতাংশই যায় যুক্তরাজ্যে। অর্থাৎ আকাশপথে বহির্গামী পণ্যের এক-তৃতীয়াংশই এবার হুমকির মুখে পড়ল। নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় যুক্তরাজ্য এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে জানা যায়, প্লেট ও স্ক্যানার কেনা এবং পরিচালনাসহ কার্গো কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করা যাচ্ছে না। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনেক সিদ্ধান্ত সংস্থা দুটি, বিশেষত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরোয়া করে না।

সিভিল এভিয়েশন অন্যান্য দেশের মতো গ্রাউন্ড ও কার্গো পরিচালনার দায়িত্ব পেতে চায়। কিন্তু বিমান ছাড়বে না। কারণ লোকসানি এ সংস্থার নগদ অর্থ আয়ের দুটি খাত হচ্ছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও কার্গো হ্যান্ডলিং। এদিকে বিমান কার্গো কমপ্লেক্সে অবকাঠামো নির্মাণ করতে অনাগ্রহী। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও নিজেরা অবকাঠামো নির্মাণ করে বিমানের হাতে তুলে দিতে চায় না। এই বিরোধ দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে হুমকিতে ফেলেছে।

যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ অবশ্যই বাস্তবসম্মত। শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ত্রুটি ও অনিয়ম নতুন কিছু নয়। যুক্তরাজ্য বলছে, রপ্তানি টার্মিনালে কর্মরত ৩০০ ব্যক্তির মধ্যে মাত্র ৬০ জন বিমানের নিজস্ব। বাকিরা বিভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বহিরাগত। তাদের মধ্যে চোরাচালানসহ বিভিন্ন মামলার আসামিও আছে। নামমাত্র স্ক্যানের পর তারা টার্মিনালে প্রবেশ করছে। বিনা স্ক্যানে অবাধে পণ্যসামগ্রীও বিভিন্ন এয়ারলাইনসে ওঠানো হচ্ছে। এই সুযোগে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে দেওয়ার আশঙ্কার কথা স্পষ্টতই বলা হয়েছে ব্রিটিশ রিপোর্টে।

বিশ্বজুড়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আশঙ্কা করা যেতেই পারে। তবে তিন মাসের সময় দিয়ে ২৩ দিন আগেই কেন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হবে?

ভারতের ব্যবসায়ীরা মুখিয়ে আছেন ইউরোপের বাজার দখল করার জন্য। পাকিস্তানও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে বাজার হাতছাড়া হবে; ক্ষতির মুখে পড়বে ব্যবসায়ী, কৃষক, প্যাকিং কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট খাতের লাখ লাখ মানুষ। ব্রিটেনে প্রবাসী বহু বাংলাদেশি দেশের শাকসবজি ও মাছের ওপর নির্ভর করে। সরাসরি পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও অন্য দেশ হয়ে কার্গো ব্রিটেনে নেওয়া যাবে। কিন্তু বাইরের বিমানবন্দরে স্ক্যানিং করতে হবে বলে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাবে।

উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা ক্ষোভের সঙ্গে বলছেন, বাইরের দেশগুলোর আশঙ্কা যেমন অমূলক নয়, তাদের দাবিও নতুন নয়। সরকার কেন সমাধান করতে পারছে না? ব্রিটেনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ব্যবস্থা নিতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। আমরাও মনে করি, একের পর এক দেশ কার্গোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে তৈরি পোশাক, সবজিসহ রপ্তানিমুখী বেশ কিছু পণ্যের বাজার সংকুচিত হয়ে আসবে। দেশ বঞ্চিত হবে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে। বিমান বা সিভিল এভিয়েশনের দ্বন্দ্বের বলি হবেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও উত্পাদনকারী, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের অর্থনীতি—এটা মানা যায় না। বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো ধরনের অবহেলাও কাম্য নয়।


মন্তব্য